নয়ন দাস
শরীয়তপুর প্রতিনিধি।।
শারদীয় দূর্গাৎসব উপলক্ষ্যে শরীয়তপুরের পূজা মন্ডপগুলোতে মিষ্টি বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর শরীয়তপুর জেলা কমান্ডেন্ট মো. মইনুল ইসলাম।
গতকাল সোমবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৫ টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত জেলার ৬টি উপজেলায় বিভিন্ন মন্ডপে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
জানা গেছে, জেলা কমান্ডেন্ট মো. মইনুল ইসলাম শরীয়তপুরে যোগদানের পর থেকে জেলার সর্বস্তরের মানুষের জন্য আনসার বাহিনীর সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। যেকোনো উৎসবে শিশুরা সবচেয়ে বেশি আনন্দ করে।আনন্দ উৎসব শিশুদের বিকাশে সহায়তা করে। শিশুরাই দেশের আগামির ভবিষ্যত। শিশুদের সুষ্ঠু বিকাশে তাদেরকে আরও বেশি আনন্দ দিতেই বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আমিনুল হক, মহোদয়ের নির্দেশে তিনি এ মিষ্টি বিতরণ করেন।
বিপাসা নামে সাত বছরের এক শিশু মন্ডপে এসেছেন দূর্গা মাকে প্রণাম করতে। এসময় বিপাসাকে মিষ্টি খাইয়ে দেন মইনুল ইসলাম। বিপাসা বলেন, দূর্গা উৎসব আমাদের বড় উৎসব। এই উৎসবে একটু বেশিই আনন্দ। মন্ডপে আসার পরে স্যার আমাকে মিষ্টি খাইয়েছেন।
ডামুড্যা উত্তর বাজার হরিসভা মন্দিরের সভাপতি দিলিপ দাস বলেন, পূজো শুরুর দিন থেকে আনসার ও পুলিশ বাহিনী সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিচ্ছেন আমাদের। হঠাৎ করেই সন্ধ্যার দিকে মইনুল ইসলাম স্যার এসে বাচ্চাদেরসহ আমাদেরকে মিষ্টি খাওয়ালেন। তার এই আন্তরিকতায় আমরা বিমোহিত। প্রশাসনের লোকজন এভাবে এগিয়ে আসলে আমরা নিরাপদে পূজা আর্চনা করতে পারি।
সখিপুর বাজার মন্দিরের সভাপতি লিটন ঘোষ বলেন, সখিপুরে আমরা মাত্র ১১ টি পরিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের। এই অল্প সংখ্যক মানুষকে নিরাপত্তা দিতে এখানে সব সময় আনসার ও পুলিশ বাহিনী নিরাপত্তা দিচ্ছে। হঠাৎ করেই পূজার মন্ডপে এসে বাচ্চাদের মিস্টি খাওয়ানোকে আমি এই অর্থে বুঝি যে, এমন প্রশাসনিক লোক থাকলে দেশে আমরা নিরাপদে বসবাস করতে পারব, সুন্দরভাবে নির্বিঘ্নে পূজা অনুষ্ঠান করতে পারব।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর শরীয়তপুর জেলা কমান্ডেন্ট মো. মইনুল ইসলাম বলেন, যেকোনো উৎসব মানে শিশুদের আনন্দ। শিশুদের আনন্দ না থাকলে কোনো কিছুই সফল হয় না। শিশুরা ফুলের মত, ওরা মিষ্টি খেতে পছন্দ করে বলেই ওদেরকে খাইয়েছি। ওরা আনন্দ পেয়েছে, এটাই আমার সফলতা।
উল্লেখ্য, এবছর শরীয়তপুর জেলায় সার্বজনীন শারদীয় দূর্গাৎসব নির্বিঘ্নে পালনের জন্য জেলার ৯৮ টি মন্দিরে ৬৫২ জন আনসার সদস্য পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্ব পালন করছেন।






















