শাহীন মাহমুদ রাসেল
কক্সবাজার প্রতিনিধি।।
কক্সবাজার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওসমান সরওয়ার টিপুর বিরুদ্ধে সেবা প্রার্থীদের হয়রানি ও হেনেস্তা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাগরিক সনদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, প্রত্যয়ন এবং বিবিধ প্রত্যয়নের জন্য গেলে নানাভাবে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি করে ওয়ার্ড কাউন্সিলর টিপু।
নানা বাহানায় প্রয়োজনীয় কাগজে স্বাক্ষর করে না তিনি। টিপুর বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে এমন অভিযোগ দায়ের করেছেন একই ওয়ার্ডের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়ার এবিসি ঘোনার মৃত মোহাম্মদ শফিকুর রহমানের ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন।
অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও অভিযোগ নিস্পত্তি কর্মকর্তা মো.এমদাদুল হক চৌধুরী।
জয়নালের নেওয়া জন্ম লিখিত অভিযোগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২৭ সেপ্টেম্বর ও তার আগে জন্ম সনদের জন্য কাউন্সিলর টিপুর কাছে স্বাক্ষর আনতে যান জয়নাল। কিন্তু টিপু তাকে চিনে না দাবী করে স্বাক্ষর সনদের কাগজে যেমন স্বাক্ষর করেনি টিপু তেমনি অন্য এক নারী তার মেয়েকে ভোটার করার কাগজ নিয়ে আসলে সেখানেও স্বাক্ষর করেনি কাউন্সিলর। জয়নাল তখন স্বাক্ষর না করার কারন জানতে চাইলে টিপু ক্ষিপ্ত হয়ে জয়নালের সাথে দুর্ব্যবহার করেন।
এবিষয়ে অভিযোগকারী মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, আমি ব্যক্তিস্বার্থে নয় দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে পৌরবাসীর সুবিধার্থে অভিযোগ করেছি। কাউন্সিলর টিপু নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এলাকাবাসীদের নাগরিক সেবা না দিয়ে নানা ভাবে হয়রানি করছেন।
তিনি আরো বলেন, ধরুন আপনি এবং আপনার স্ত্রী অথবা বাবা মা অন্য জায়গার ভোটার। কিন্তু আপনি বর্তমানে কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডে বসবাস করেন। তাহলে কাউন্সিলর টিপু আপনাকে কোনভাবেই নাগরিক সেবা দিবেন না। বিষয়টি পৌর আইনের সাথে সাংঘর্ষিক এটাই তিনি জানেন না।
জয়নাল আরো বলেন, আমি আমার দুই ভাগ্নির জন্য জন্মসনদের আবেদন করি। ওখানে আমি তার বাবার জন্মনিবন্ধন, ভোটার আইডি এবং মায়ের জন্মনিবন্ধন এবং তাদের বর্তমান ঠিকানা পাহাড়তলীর বাড়ির হোল্ডিং নম্বরের কাগজপত্র এবং টিকা কার্ড সরবরাহ করি। এসব দেখে আমার এলাকার সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর জাহেদা বেগম স্বাক্ষর করেন, একই কাগজে টিপু কাউন্সিলর হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে তৎকালীন প্যানেল মেয়র স্বাক্ষর করেন। পরে নতুন পরিষদ গঠিত হলে টিপুর কাছে গেলে তিনি আমাকে চিনেন না জানিয়ে স্বাক্ষর করেননি। এরপর বর্তমান প্যানেল মেয়র সালাউদ্দিন সেতু স্বাক্ষর করলেও টিপু পৌর পরিষদের জন্মনিবন্ধন বিভাগের কর্মচারীদের আমার ভাগ্নিদের জন্মসনদ দিতে বারন করে দেন। অত:পর প্যানেল মেয়র সালাউদ্দিন সেতুর সহযোগিতায় আমি ভাগ্নিদের জন্মনিবন্ধন পাই। এই ঘটনা তিনি শুধু আমার সাথে করেননি আমার চোখের সামনে অনেকের সাথে করেছেন। আর এনিয়ে আমি প্রতিবাদ করায় তিনি পৌরসভার ভেতরে এবং এলাকাতেও আমাকে নানা হেনেস্তা করেছেন।
তবে রোহিঙ্গাদের কোন কাগজপত্রে তিনি স্বাক্ষর করবেন না এমন শপথ নিয়ে পৌর পরিষদে বসেছেন জানিয়ে ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওসমান সরওয়ার টিপু বলেন, যেদিন জয়নাল আমার সাথে কথাকাটাকাটি করে এবং হুমকি দেয় সেদিন জয়নাল তার নিজের কোন কাজে আসেনি। অন্য এক নারী তার মেয়েকে ভোটারের কাগজ নিয়ে এসেছিল। কিন্তু সেই নারী তার স্বামীর ভোটার আইডি, কিংবা জন্ম সনদ কিছুই দিতে পারছিলেন না। আমি তখন ওই কাগজে স্বাক্ষর না করায় জয়নাল আমাকে আইন শেখানো শুরু করে। আমার সাথে তুই তুকারি করে। আমাকে আদালত চত্বরে গিয়ে আইন শিখতে বলে। এগুলো আমি আমার পৌর মেয়রকে তাৎক্ষনিক অবহিত করি। এছাড়া জয়নালের আচরন সম্পর্কে তাঁর ছোট ভাইকে বিচার দেই।
জয়নালের কাগজে স্বাক্ষর না দেওয়ার বিষয়ে কাউন্সিলর বলেন, জয়নাল দুটি কাগজ নিয়ে এসেছিলেন। তবে এর সাথে ডকুমেন্ট না থাকায় আমি স্বাক্ষর করিনি।
তিনি আরো বলেন, পৌর পরিষদে আমি দুর্ণীতি করতে কিংবা টাকা কামাতে আসিনা। আমি পৌর পরিষদে এসেছি সম্মানের জন্য। আমি যতক্ষন দায়িত্বে থাকব ততক্ষণ আমাকে দিয়ে কোন অন্যায় কেউ করাতে পারবে না।





















