শাহীন মাহমুদ রাসেল
কক্সবাজার প্রতিনিধি।।
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে একটু সহযোগিতার জন্য সবার দিকে তাকিয়ে আছে কক্সবাজার শহরের পশ্চিম নতুন বাহারছড়ার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী তানিয়া সুলতানা। তানিয়ার জীবন প্রদীপ এখন নিভু নিভু। গর্ভেধারণ করা সন্তানকে মানুষ করে পৃথিবী জয়ের অদম্য ইচ্ছায় বাড়ি ফেরার দৃঢ় প্রত্যয়ী এই প্রসূতি প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন কক্সবাজার সদর হসপিটালের আইসিইউ’র লাইফ সাপোর্টে। জীবন সংগ্রামী তানিয়ার ফুসফুসে বায়ুপ্রবাহের নানা জায়গায় তরল ও পুঁজ জমে মুখে ক্ষত দেখা দিয়েছে।
চিকিৎসকের মতে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ হার্ট বিট স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আইসিইউ’র লাইফ সাপোর্টে রাখা না হলে যে কোনো সময় নিভে যেতে পারে তানিয়ার সম্ভাবনায় সুন্দর জীবনপ্রদীপ। ধূসর হয়ে যেতে পারে তার স্বপ্ন, সাধ এবং ভালোবাসা; মুছে যেতে পারে চিরচেনা প্রিয়মুখ তানিয়া।
তানিয়ার শশুর বাড়ি কক্সবাজার শহরের পশ্চিম নতুন বাহারছড়ায়। সত্তোর্ধ পিতা-মাতাও দারিদ্র। স্বামী আনোয়ার হোসেন কক্সবাজারের বিভিন্ন ষ্টশনে ফেরি করে মাছ বিক্রি করে কোনোমতে টেনেঠুনে সংসার চালাচ্ছেন। গৃহিনীর কাজ করে স্বামীকে সমর্থন যুগিয়ে আগামীর পথে এগিয়ে যাচ্ছিল তানিয়া। হঠাৎ করে সবকিছু কেমন যেন ওলোট-পালোট করে দেয় বাচ্চা প্রসবে ‘সিজার’ নামক ব্যাধি। থমকে যায় সে; ফিকে হতে শুরু করে তার অপার সম্ভাবনাময় পথচলার। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রসব যন্ত্রনা নিয়ে তানিয়াকে কক্সবাজার শহরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেখানকার দায়ীত্বে থাকা ডাক্তার জানান তার গর্ভে থাকা বাচ্চাটি দু’দিন আগেই মারা গেছে। এবং শিশুটির শরীরে পচন ধরেছে জানিয়ে রেফার্ড করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। এসময় চিকিৎসক অপারেশনের পরামর্শ দেন। পরে সদর হাসপাতালে প্রসূতি তানিয়ার সিজার অপারেশন করার পর থেকে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকার কারণে হার্ট বিট বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে সদর হসপিটালের আইসিইউ’র লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে।
তানিয়ার স্বামী আনোয়ার হোসেন জানান, ধার-দেনা করে এই পর্যন্ত দুই লক্ষ টাকা খরচ করেছেন তিনি। প্রতিদিন তানিয়ার চিকিৎসার জন্য ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকার প্রয়োজন যা তার মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে যোগাড় করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় সাহায্যের জন্য সমাজের সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। সবাই যদি একটু একটু করে এই গৃহিনীর সহায়তায় এগিয়ে আসেন তবে হয়তোবা তানিয়া ফিরে পেতে পারেন নতুন জীবন।
ক্রমাগত ছোট হয়ে আসছে তানিয়ার পৃথিবী, কিন্তু বেঁচে থাকার আশাটা বড় বেশী তার। প্রশ্ন থেকে যায়, তবে কী এভাবেই মুকুলেই ঝরে যাবে তানিয়া! বিবেকের দায় কি আমাদের নাড়া দেবে না, যদি সে ঝরে যায়! একটু সহানুভূতি; একটু ভালোবাসা প্রকাশের অপেক্ষা মাত্র। ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না…।’ এমনি ভরসার বাণী সামনে নিয়ে অন্ধকারে নিভতে যাওয়া তানিয়া নামক প্রদীপকে আলোকিত করে তুলতে সবার সাহায্য একান্ত প্রয়োজন। তাই আসুন, তানিয়ার পাশে দাঁড়াই, এগিয়ে দেই সহযোগিতার হাত। বেঁচে উঠুক সে, স্বপ্নীল আকাশে অহর্নিশ ডানা মেলে উড়ুক তার রঙিন দিনগুলি।
আইসিইউ’র লাইফ সাপোর্টে থাকা তানিয়ার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য পাঠাতে বিকাশ করুন +৮৮০১৬২৪৭৭২৮৩৫ এই নম্বরে। আরও বিস্তারিত জানতে তার স্বামী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে পারেন এই ০১৮৭৩৮২৮৯৯৪ নম্বরে।





















