আজ ২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

উচ্চ আদালতে জামিন চাইতে গিয়ে ইমরান খান গ্রেপ্তার, ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা

  • In আন্তর্জাতিক
  • পোস্ট টাইমঃ ১০ মে ২০২৩ @ ০৪:৩২ পূর্বাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ১২ মে ২০২৩@১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
উচ্চ আদালতে জামিন চাইতে গিয়ে ইমরান খান গ্রেপ্তার, ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা

বিডিহেডলাইন্স ডেস্ক
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানকে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (আইএইচসি) থেকে আর্থিক অপরাধ সংক্রান্ত জাতীয় ব্যুরো এনএবি গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার সেদেশের গণমাধ্যম বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অবৈধভাবে আল-কাদির ট্রাস্টকে জমি বরাদ্দ দেওয়ার’ একটি দুর্নীতি মামলায় তাকে আটক করা হয়।

ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করার পর রাজধানী ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে চারজনের বেশি জমায়েত।

পিটিআই চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে নথিভুক্ত একাধিক এফআইআরে জামিন চাইতে আইএইচসিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় রেঞ্জার্সকর্মীরা তাকে হেফাজতে নেন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কালো ভিগো গাড়িতে করে নিয়ে যায়।
ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফের (পিটিআই) নেতারা দলীয় কর্মী–সমর্থকদের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করার ডাক দিয়েছেন।
তবে গ্রেপ্তার করার পর ইমরানকে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে রাখা হয়েছে নাকি অন্য কোথাও নেওয়া হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ইসলামাবাদ পুলিশের টুইটার পেজে জানানো হয়েছে, ‘আল–কাদির ট্রাস্ট মামলায় ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
স্থানীয় টিভিতে প্রচারিত সংবাদে বলা হয়, ইসলামাবাদ হাইকোর্টের সামনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে জড়ো হয়েছেন পিটিআইয়ের কয়েক শ কর্মী–সমর্থক। সেখানে তাঁদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ শুরু হয়।

অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছেন ইমরান খান। সম্প্রতি তিনি অভিযোগ করেন, একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন। তাঁর এমন অভিযোগে সেনাবাহিনী ক্ষোভ প্রকাশ করে সোমবার তাঁকে সতর্ক করে। সেনাবাহিনী সতর্ক করার পরদিনই ইমরান গ্রেপ্তার হলেন।
গতকালের ওই সতর্কতার মধ্য দিয়ে আরও স্পষ্ট হয়, ইমরান খানের সঙ্গে পাকিস্তানের ক্ষমতাধর সেনাবাহিনীর সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে। বলা হয়ে থাকে, সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে ইমরান ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেন। তবে মতবিরোধের জেরে সেনাবাহিনী সমর্থন প্রত্যাহার করলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে তাঁকে অপসারণ করা হয়।

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে পাকিস্তানের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত নাজুক। ইমরান খান অপসারিত হওয়ার পর গঠিত জোট সরকারের অবস্থানও নড়বড়ে। আর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরান খান আগাম নির্বাচন আয়োজনে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছেন। যদিও শাহবাজ শরিফ সরকার এখনো নিজ অবস্থানে অনড়।
গত সপ্তাহের শেষ দিকে লাহোরে এক সমাবেশে ইমরান খান আবারও দাবি করেন, দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ফয়সাল নাসের গত বছর তাঁকে গুপ্তহত্যার চক্রান্ত করেন। এরপর একটি সমাবেশে ইমরানকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। তবে গুলি তাঁর পায়ে লাগে।

এদিকে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর গতকাল এক বিবৃতিতে ইমরানের ওই অভিযোগ খারিজ করে বলেছে, এ বানোয়াট ও বিদ্বেষপূর্ণ অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য।

তবে গ্রেফতারের কথা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন ইমরান খান। পাকিস্তানের আধাসেনা রেঞ্জার্স বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার কিছুক্ষণ আগে ভিডিও বার্তায় তার দল পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফ (পিটিআই)-এর কর্মী–সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিলেন ইমরান খান।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, যতক্ষণে আমার কথা আপনাদের কাছে পৌঁছবে, ততক্ষণে একটি অবৈধ মামলায় আমাকে গ্রেফতার করা হবে।

পাকিস্তানের সাবেক এ ক্রিকেট অধিনায়ক বলেন, পাকিস্তানে আমাদের মৌলিক ও আইনি অধিকারের সমাধি হয়ে গেছে। এরপর হয়তো আপনাদের সঙ্গে আমার কথা বলার সুযোগ হবে না।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights