শাহীন মাহমুদ রাসেল
কক্সবাজার প্রতিনিধি।।
ছোটবেলা থেকে প্রশাসনকে একধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ইয়াবা ব্যবসা করছেন। তার কোনো বৈধ আয়ের ব্যবসা নেই। মাদক ব্যবসাই একমাত্র তার পেশা। এসেছে অভাবনীয় সাফল্যও। দীর্ঘ সময় ধরে এই ব্যবসার মাধ্যমে বানিয়েছেন কোটি টাকার সম্পদ। এতক্ষণ যার কথা বলা হচ্ছে তিনি হলেন- কক্সবাজারের টেকনাফের দক্ষিণ হ্নীলা বাজার পাড়ার মৃত ফকির চন্দ্র ধরের পুত্র নির্মল ধর (৬৬)। টেকনাফ থানা এলাকায় তার নিজ ভিটে বাড়ি হলেও তিনি বসবাস করছেন কক্সবাজার সদর এলাকায় একটি ছয়তলা বাড়িতে।
অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকার জ্ঞাত বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় নির্মল ধরের বিরুদ্ধে দুদক মামলা দায়ের করেছে।
বুধবার (১৩ সেপ্টম্বর) দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কক্সবাজারের উপ সহকারী পরিচালক পার্থ চন্দ্র পাল বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত নির্মল ধর বর্তমানে কক্সবাজার সদর থানার ঘোনারপাড়ায় এলাকায় বসবাস করছেন।
দুদকের মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালে প্রাপ্ত অনুসন্ধানে ভিত্তিতে আসামি নির্মল ধরের (৬৬) বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পেয়েছে দুদক। ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি করে দুদক কমিশন। পরে এ আদেশটি আসামীকে বর্ণিত ঠিকানায় না পেয়ে বিনা জারিতে ফেরত আসে দুদক অফিসে।
২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আসামি নির্মল ধরের প্রতি সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বাড়ির পাশে ঝুলিয়ে দেয় দুদক। পরবর্তীতে ওই আদেশের প্রক্ষিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২০২০ সালের ১২ অক্টোবরে তিনি সম্পদ বিবরণী ফরমপূরন করে দাখিল করে দুদকে। তিনি তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে শুধুমাত্র ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য দেয় নির্মল ধর। সেখানে অনুসন্ধানে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৩০ হাজার ৭৬৮ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ১ কোটি ৩২ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৩ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জন করে ভোগ দখল থাকার সত্যতা পেয়েছে দুদক।
এ ঘটনায় আসামি নির্মল ধরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দীন।
মাদকের কারবার থেমে নেই:
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে হত্যাকান্ডের আগের সময়ে দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে গাঢাকা দেওয়া কারবারিদের অনেকেই সক্রিয় হতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগ নিয়েছে তারা। কেউ কেউ নতুন করে রাজনৈতিক আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলেও খবর এসেছে গণমাধ্যমে।
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের কারণে মাদক সিন্ডিকেটগুলো গত বছর ধরে তাদের রুট পরিবর্তন করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে মাদক কারবারিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এদের অনেকেই রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মাদক কারবার চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু কক্সবাজার এলাকাতেই অনেক জনপ্রতিনিধি প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে।###






















