হারুন-অর-রশীদ
ফরিদপুর প্রতিনিধি।।
সাবেক সংসদ উপনেতা ও বাংলাদেশ আ’লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১১ সেপ্টম্বর) বাদ আসর সাজেদা চৌধুরীর নিজ বাড়ি ফরিদপুরের সালথার রসুলপুর গ্রামের হামিদ মঞ্জিল প্রাঙ্গণে এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন সাজেদা চৌধুরীর কনিষ্ঠ ছেলে ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী।
এতে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক, সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. ইশতিয়াক আরিফ, যুগ্ম-সম্পাদক ঝর্ণা হাসান, ফরিদপুর পৌর মেয়র অমিতাভ বোস, সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন মিয়া, নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার, সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওয়াদুদ মাতুব্বর প্রমূখ।
দোয়া পরিচালনা করেন স্থানীয় বাহিরদিয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আকরাম আলী। দোয়া মাহফিলে সাজেদা চৌধুরীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন নেতারা।
২০২২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ৮৭ বছর বয়সে মারা যান এ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও জাতীয় সংসদের উপনেতা।
মৃত্যুকালে তিনি ৩ ছেলে ১ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
১৯৩৫ সালের ৮ মে মাগুরায় জন্মগ্রহণ করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা সাজেদা চৌধুরী। ১৯৫৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ১৯৬৯-৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতা গোবরা নাসিং ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর আওয়ামী লীগকে সংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
১৯৭৬ সালে এই প্রবীণ নেতা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৯২ থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ছিলেন। ২০১০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। এছাড়া সাজেদা চৌধুরী একাধিবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর সাজেদা চৌধুরীকে প্রথমবার জাতীয় সংসদের উপনেতা করা হয়। দশম সংসদেও তিনি উপনেতার দায়িত্ব পান।






















