আজ ২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনীর দখলে কক্সবাজার শহর, জনমনে আতঙ্ক

  • In আইন ও অপরাধ, সারাবাংলা
  • পোস্ট টাইমঃ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ @ ০৫:২৮ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩@০৫:২৮ অপরাহ্ণ
একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনীর দখলে কক্সবাজার শহর, জনমনে আতঙ্ক
ছবি- বিডিহেডলাইন্স

শাহীন মাহমুদ রাসেল
কক্সবাজার প্রতিনিধি।।

পর্যটন শহর কক্সবাজারে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে জেল ফেরত সন্ত্রাসী ও দাগী অপরাধীরা। এদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে পর্যটক ও পর্যটন ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় কয়েক লক্ষাধিক মানুষ।

কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ থেকে বাসটার্মিনাল হয়ে চদ্রিমা হাউজিং পর্যন্ত বিশাল এলাকা জুড়ে অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে দুর্ধর্ষ এ অপরাধী চক্র। স্থানীয়ভাবে এরা নুরাইয়া-সাফু বাহিনী নামে পরিচিত। এ বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য রোহিঙ্গা বলে জানিয়েছে ভূক্তভোগীরা।

সূত্রে জানা গেছে, মাদক কারবার থেকে শুরু করে ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি, জমি দখল, ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সহ সব ধরনের অপরাধের সাথে এ বাহিনীর সদস্যরা জড়িত। যেখানে অপরাধ সেখানেই রয়েছে এই বাহিনীর হাত। বিশেষ করে বিভিন্ন বিরোধীয় জমি দখলে কন্টাকে ভাড়াটিয়া হিসাবে ব্যবহার হয় শহরের আলোচিত এ সন্ত্রাসী বাহিনী। বাহিনী প্রধান সাফু ও নুরাইয়া ইতিপূর্বে মাদকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। জামিনে এসে তারা ফের বীরদর্পে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

সচেতন মহল বলছে, একাধিক সন্ত্রাসী দল এই শহরটাতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এরা চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে খুন-ধর্ষণ-চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই সব করে বেড়ায়। অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র থেকে শুরু করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হরহামেশাই মহড়া দেয় তারা। রাতের পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও বেশি ভয়ঙ্কর।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদর উপজেলা হয়ে বাস টার্মিনাল সহ দক্ষিণ ডিককুল, গয়মতলি, পূর্ব লারপাড়া, গমপানির ছড়া, পশ্চিম লারপাড়া, মাষ্টার বদিউর রহমানের ঘোনা, উত্তরণ এলাকা, জেল গেইট, শামশু মাষ্টারের ঘোনা, ইসলামাবাদ, ঘৃত পল্লি, বনরুপা পাড়া, কলাতলীর বখতিয়ার ঘোনা, আপন নিবাস হাউজিং এলাকা, চন্দ্রীমা হাউজিং ও কলাতলী এলাকা পর্যন্ত বিশাল পাহাড়ী এলাকা এখন এই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

এলাকায় এরা এতই ক্ষমতাধর যে প্রকাশ্যে কোন অপরাধ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কেউই মুখ খুলতে সাহস পায় না। অথচ এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি সহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য বিভিন্ন অপরাধে ইতিপূর্বে গ্রেফতার হয়ে জেল কেটেছে। কিন্তু কিছুদিন কারাবাসের পর জামিনে বেরিয়ে পুনরায় তারা জড়িয়ে পড়ে অপরাধ কর্মকান্ডে। দিনের পর দিন অপরাধ করেও রহস্যজনকভাবে এরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

আ.লীগ নেতাদের মতে, কক্সবাজারের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি কি তা একটি ঘটনা দেখলেই বুঝা যাবে। আর তা হলো সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল ও শহর আ.লীগ নেতা সাইফু উদ্দিন হত্যাকান্ড। অথচ হামলাকারীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে জামিনে বের হয়ে আবারও সন্ত্রাসী কর্মকার্ন্ড চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ আছে, এইসব সন্ত্রাসীদের জন্য আওয়ামীলীগের কিছু নেতা তদবির করেন তাও আমি প্রকাশ্যে।

স্থানীয় ভূক্তভোগীরা জানিয়েছে, এসব অপরাধীদের সাথে থানা পুলিশের দালাল বা সোর্সদের রয়েছে বিশেষ সম্পর্ক। সোর্সরা পুলিশ ও আইন শৃংখলা বাহিনীর হাত থেকে এদের রক্ষার জন্য তদবির করে এবং দখল করা জমি ও মাদকের টাকার ভাগ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভয়ংকর ও প্রভাবশালী নুরাইয়া ও সাফু বাহিনীতে রয়েছে ডজন খানেক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী যাঁদের সার্বক্ষনিক সাথে নিয়ে চলাফেরা করে নুরাইয়া ও সাফু।
এলাকায় এদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারও নাই। অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চোরাকারবারি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অন্যের জমি দখল করাই নুরাইয়া ও ও সাফু বাহিনীর প্রধান পেশা।

একাধিক অস্ত্র ও ইয়াবা মামলার আসামি নুরুল ইসলাম প্রকাশ নুরাইয়া ওরফে নুরু ডাকাত সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের
পাহাড়ঘেষা পশ্চিম লারপাড়ার নুর হোসাইনের ছেলে। আর সাইফুল ইসলাম প্রকাশ সাফুর বাড়ি ঝিলংজা ইউনিয়নের ইসলামাবাদ এলাকায়। তার পিতার নাম ছৈয়দ কাছিম। সেও একাধিক অস্ত্র ও ইয়াবা মামলার আসামি।

নুরাইয়া-সাফু বাহিনীর প্রধান সহযোগি হিসাবে রয়েছে জালাল ও আমান উল্লাহ। তাদেরও রয়েছে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী। ঝিলংজা ২ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ ডিককুল এলাকার শামশুল হুদার ছেলে আমান উল্লাহ । তার বিরুদ্ধেও একাধিক অস্ত্র ও ইয়াবা মামলা রয়েছে।

একই এলাকার আবদুল হাকিমের ছেলে জালাল আহমদ, বঙ্গোপসাগরে ১৪ মাঝি মাল্লা হত্যা মামলার আসামি। জাতীয় পরিচয় পত্রে তার ঠিকানা পৌরসভার কলাতলী এলাকা হলেও সে বর্তমানে বসবাস করে আসছে ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিককুল গ্রামে।

নুরাইয়া-সাফু বাহিনীর সহযোগী হিসেবে আরো যাদের নাম বেরিয়ে এসেছে তারা হলো কলাতলীর মোঃ নুর, জেল গেইটের আবুল কাশেম, ঝিলংজা ইসলামাবাদের জাফর, কাজল, মোঃ আলী, বাসটার্মিনাল পশ্চিম লারপাড়ার শফি আলম, রুবেল প্রকাশ কালা রুভেল, জায়রা, দক্ষিণ ডিককুলের জুবায়ের প্রমুখ।

সম্প্রতি এ বাহিনী অসহায় মানুষের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকার জমি জোরপূর্বক জবরদখল করেছে।
প্রথমে তারা চাঁদা দাবী করে চাঁদা না পেলে নোটারী ও ভুয়া কাগজ তৈরী করে সেই জমির দখল নেয়। এভাবে তারা ১ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ ডিককুল এর আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম এর কাছ থেকে ছয় শতক, আবদুল আলিম থেকে ছয় শতক, মৃত আবু তাহেরের পরিবার থেকে ছয় শতক, ঝিলংজা ইসলামাবাদ এলাকার মাষ্টার হারুনের কাছ থেকে চার শতক, পশ্চিম লারপাড়ার এক প্রবাসী থেকে ১২শতক, ইসলামাদ ঝিলংজা ১ নং ওয়ার্ডের অ্যাডভোকেট বাবুল কান্তি দে এর আট শতক, জেল গেইটের জনৈক নুরুল আলম থেকে আনুমানিক ৩৩ শতক, জনৈক অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি কর্মকর্তার কাছ থেকে কয়েক শতক জমি জবর দখল করে নেয়।
২০১০ সাল থেকে নুরাইয়া মূলত অপরাধ জগতে পা বাড়ায়। এসময় থেকে তার নেতৃত্বে বিভিন্ন অপরাধকান্ড সংগঠিত হতে থাকে। এইসব অপরাধে বিভিন্ন সময় বেশ কয়েকবার জেলও খাটে। তবে প্রতিবার জেল থেকে বের হয়ে সে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সর্বশেষ সাফু, আমান ও জালালকে সাথে নিয়ে কয়েকটি বাহিনী গড়ে তুলে চালিয়ে যাচ্ছে জমি দখল, মাদক কারবার, অস্ত্র ব্যবসা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড।

ভোক্তভুগীদের বক্তব্য:

কুতুবদিয়ার বাসিন্দা আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম ২০১৪ সালে সন্তানদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে ঝিলংজার দক্ষিণ ডিককুল এলাকায় ৬ শতক জমি ক্রয় করেন রেকর্ডীয় মালিক গোলাম মাবুদের কাছ থেকে। এরপর ভোগদখলে থাকা অবস্থায় গেল রমজানে নুরাইয়া বাহিনী নুরুল ইসলামের কাছ থেকে মোটাঅংকের চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দেয়ায় একটি ভুয়া স্ট্যাম্প তৈরী করে তার সেই জমি দখল করে নেন।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপর রয়েছে পুলিশ। সব ধরনের অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ। অপরাধ করে কেউ রেহাই পাবে না বলে জানান পুলিশের এই কর্তমর্তা।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights