।।নিজস্ব প্রতিবেদক।।
প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইনে কেউ মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা করলে বাদীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখার প্রস্তাব করেছে বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন। এছাড়া আইনে ‘জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি’ গঠনের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, সেখানে একজন সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যম বিশেষজ্ঞ রাখা এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কাউন্সিলে বিএফইউজের সুপারিশ অনুযায়ী- একজন সাংবাদিক বা গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন বিষয়ে বিএফইউজের উপস্থাপনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিএফইউজের পক্ষে সংগঠনের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল লিখিতভাবে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন। সভায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী তার বক্তব্যে বিএফইউজের প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব দ্বীপ আজাদের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, বর্তমান সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন প্রমুখ।
প্রস্তাবে মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইনের কোনো ধারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সংবিধানের বিধান, তথ্য অধিকার আইন ২০১৯ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় কি না, তা আরও নিবিড়ভাবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মিসইউজ ও এবিউজ হয়েছে, এটা আইনমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন। অনেককে শুধু হয়রানি করার জন্যই মামলা করা হয়েছে। সাইবার সিকিউরিটি আইন যাতে সেই একই পথে না হাঁটে সেজন্য এ আইনে কয়েকটি ধারা বা উপধারা সংযোজন করার বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানান তিনি।খসড়া আইনে ‘জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি’ গঠনের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, সেখানে একজন সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যম বিশেষজ্ঞ রাখার প্রস্তাব করে বলেন, এতে আইনটি প্রয়োগের শুরুতেই অনেক ঝামেলা এড়ানো যাবে।
পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার বক্তব্যে বিএফইউজের প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে বলেন, অনেকেই সাংবাদিক সেজে অপরাধ করে। কিন্তু প্রকৃত সাংবাদিক এবং সাংবাদিক সেজে অপরাধ করাটা এক নয়। এরমধ্যে একটা বড় পার্থক্য আছে। সেই পার্থক্যটা যেন আমরা সবাই বুঝি, সেই অনুরোধ থাকবে। সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যেন এ আইনটা ভালোভাবে পরিচালনা করা যায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আনিসুল হক বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট সংসদে উপস্থাপন করার পর এটা সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখানে হয়তো ৪ থেকে ৫ দিন সময়ের জন্য থাকবে। তিনি সোমবারও আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। সংসদীয় কমিটিতে মতামত দেওয়ার জন্য সাংবাদিক প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোর ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী তাকে মৌখিকভাবে আশ্বস্ত করেছেন।
মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করলে বাদীর সাজা দেওয়ার বিধান রাখার ব্যাপারেও কাজ চলছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, মিথ্যা মামলা করলে বাদীকে উলটো সাজা দেওয়ার ব্যাপারটা, সেটা নিয়েও কাজ করছি আমরা। এটার জন্য যা করা দরকার, তা নিয়ে আজকেই কথা শেষ করে ফেলবো।






















