।।বিনোদন ডেস্ক।।
চলচ্চিত্র অভিনেতা ডিপজলের অন্ধভক্ত দুলাল। পছন্দের এই মানুষকে কিছু একটা উপহার দেওয়ার নেশায় পেয়ে বসে তাকে। সিদ্ধান্ত নেন নিজের হাতে তৈর কিছু একটা দেওয়ার। কাঠমিস্ত্রি দুলাল সিদ্ধান্ত নেন কাঠের খাট দেওয়ার।
নিজেই করেন নকশা। তাজমহলের আদলের সঙ্গে নিজের কিছু চিন্তা।
প্রায় তিন বছর আট মাসের সাধনা। তৈরি হলো খাট।
বিশেষত্ব হলো খাটটি তাজমহলের আদলে গড়া। আছে ৩৮৭টি গোলাপ। খাটের চারটি স্ট্যানে নানা আদলের নকশা। মোট ৮০টি নাট লেগেছে খাটটি সংযুক্ত করতে।
মোট ব্যয় হয়েছে ২৫ লাখ টাকার মতো। আকাশি কাঠ দিয়ে গড়া খাটটি নিজের হাতেই বানিয়েছেন দুলাল। তবে বার্নিসের জন্য আলাদা মিস্ত্রি আনান তিনি।
মো. দুলাল মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের মীরহাটি এলাকায়। বয়সে তরুণ দুলাল পেশায়ও একজন কাঠমিস্ত্রি।
এখনো বিয়ে করেননি তিনি। নিজের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মীরহাটি এলাকার ‘দুলাল ফার্নিচারে’ খাটটি রেখেছেন তিনি।
দুলালের প্রতিষ্ঠানের খোঁজে ভুল পথেই যাওয়া। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের সুহিলপুর বাজারে চলে গেলেও খুব একটা সমস্যা হয়নি। দুলাল মিয়ার কাঠের দোকান কোনদিকে বলতেই হাস্যোজ্জ্বল মুখে পথ চিনিয়ে দিলেন অনেকে।
আজ রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে মীরহাটি বাজারের ঢুকতেই দুলাল মিয়ার দোকানে ১৫-২০ জনের জটলা। বেশিরভাগই ব্যস্ত ছবি তুলতে। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর অনেকেই উদ্যোগী হয়ে ভেতরে যাওয়ার ব্যবস্থা করলেন। এগিয়ে এলেন দুলাল মিয়া। জানালেন খাট তৈরির আদ্যোপান্ত। এক ভিডিও রেকর্ড দেখিয়ে জানালেন, শনিবার রাতে কথা হলে অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ করে খাটটি গ্রহণ করতে রাজি হয়েছেন। তবে তিনি এসে নিবেন কি-না, কিভাবে নিবেন এসব বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। ভক্তের এমন কাণ্ডে ডিপজলকে বেজায় খুশি দেখা যায় ওই ভিডিও ফুটেজে।
স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘তিন বছর আট মাসে এ খাটটি তৈরি করেছেন দুলাল মিয়া। খাটটি দেখতে খুব সুন্দর। এ ধরনের খাট আগে কখনো দেখিনি। ডিপজল যদি এসে খাটটি নিয়ে যান তাহলে দুলালের এ পরিশ্রম সার্থক হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জয়নাল বলেন, ‘ফার্নিচার বানানোর কাজ করা দুলাল আমাদের এলাকার ছোট ভাই। অভিনেতা ডিপজলকে সে মামা বলে ডাকে। তার প্রতিটি সিনেমা দুলাল দেখেছে। ডিপজলের কোনো পোস্টার পেলেই দোকানে এনে লাগাত। ডিপজলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই দুলালের এ নিদর্শন।’
মো. পাপন নামে এলাকার এক যুবক বলেন, ‘ডিপজলের সিনেমা মুক্তি পাওয়ার খবরে হলে ছুটে যেতেন দুলাল। তিনি ডিপজলের অন্ধভক্ত। কারো সাথে কথা বললেই ডিপজলের শুধু প্রশংসাই করেন। আর এ খাটটি তৈরির সময় অনেকটা গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন তিনি, কাউকে সামনে যেতে দেননি। বিষয়টি নিয়ে সবার কৌতূহল ছিল। ধীরে ধীরে বিষয়টি সবার সামনে আসে।’
মো. আনিস মিয়া নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘দুলালের খাটটি সবার দৃষ্টি কেড়েছে। গতকাল শনিবার ফেসবুকে দেওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। অনেকেই ছুটে আসছেন খাটটি দেখতে। আমরা আশা করছি ডিপজলও আসবেন খাটটি নিতে। তাহলেই দুলালের পরিশ্রম সার্থক হবে।’
দুলালের বড় ভাই মোহাম্মদ হুমায়ুন মিয়া বলেন, ‘প্রথম প্রথম আমরা এ নিয়ে আপত্তি করতাম। এটা করে কি হবে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। পরে আর আপত্তি করিনি। দুলাল মনের মতো করে খাটটি বানিয়েছে। এখন আমাদের খুব ভালো লাগছে। আশা করি অভিনেতা ডিপজল এ খাটটি গ্রহণ করে দুলালের আশা পূরণ করবেন। ফেসবুকে বিষয়টি জেনে আমার ম্যাসেঞ্জারে ভিডিও কলে কথা বলেছেন ডিপজল। খাটটি গ্রহণ করেবেন বলেও আমাদেরকে জানিয়েছেন।’
দুলাল মিয়া জানান, ২০০৮ সালে মনোয়ার হোসেন ডিপজল অভিনীত ‘দাদিমা’ সিনেমা দেখার পর থেকেই তার অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা জাগে। এরপর থেকেই নিয়মিত ডিপজলের সিনেমা দেখা শুরু করেন। সময় গড়ায় আর তিনি ডিপজলের অন্ধভক্ত হয়ে পড়েন। ডিপজলকে তিনি মামা বলে সম্বোধন করেন। কিন্তু ওনার সঙ্গে কোনো পরিচয় নেই। কখনো দেখা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ডিপজল মামার প্রতি ভালোবাসার কারণে তাকে নিজের হাতে বানিয়ে ভিন্ন কিছু উপহার দেওয়ার ইচ্ছা জাগে। সিদ্ধান্ত নেই একটি খাট বানিয়ে উপহার দেওয়ার। এরপর কাজ শুরু করি। দিনে ব্যবসায়িক কাজ শেষে বেশিরভাগই সময়ই দেই এ খাট বানাতে। সপ্তাহে অন্তত ছয় রাত কাজ করেছি। এর আগে নিজেই নকশা করি। টাকা জমিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে আকাশি কাঠ সংগ্রহ করি। বিয়ে করিনি বলে আর্থিক কোনো চাপ ছিল না। পরিবার থেকেও তেমন চাপ দেওয়া হতো না বলে কাজটা করা সহজ হয়েছে। আমি আশা করি ডিপজল মামা ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসে আমার বানানো খাটটি গ্রহণ করবেন।





















