মিলন ত্রিপুরা
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।
খাগড়াছড়ি জেলা আ’লীগের সভাপতি ও ২৯৮ নং সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা’র বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি জেলা আ’লীগ সংবাদ সম্মেলন করেছে।
রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মলন করে সংগঠনটি। এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরমেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘জনতার কাঠগড়ায় জনপ্রতিনিধি’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা-ভিত্তিহীন-মনগড়া-বানোয়াট এবং এটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
প্রকাশিত সংবাদে খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের দুইবারের নির্বাচিত এমপি ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে হেয় প্রতিপন্ন এবং আ’লীগের সুদৃঢ় অবস্থানকে দূর্বল করার জন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহলের অসৎ উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরো উল্লেখ আছে সংবাদের অভিযোগকারী হিসেবে যাদের বক্তব্য ছাপা হয়েছে; তারা মূলত দলের সুসময়ে চরম সুবিধাভোগী এবং দলের দুঃসময়ে সব সময় বিরোধীতাকারী। মূলত এই সিন্ডিকেট আ’লীগের রাজনীতিকে পুঁজি করে দীর্ঘকাল খাগড়াছড়িকে লুটেপুটে খেয়েছে। ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনে দলে থাকার পরও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন জাহেদুল আলম। তিনি জনসম্মুখে জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীকে চরম অপমানজনক বক্তব্য দিয়েছিলেন। এসবের কারণে তাকে ২০০৯ সালে দল থেকে বহিস্কারও করা হয়। তখন থেকে দলের আদর্শ ও নীতি বিরুদ্ধ অপ-তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা, আ’লীগের নেতা হিসেবে পরিচয় দেয়া রফিকুল আলম আ’লীগের কেউ-ই নন। তিনি কখনো কোনকালে আ’লীগের কোন সদস্য ছিলেন না। বরং তিনি দুই দুইবার পৌর নির্বাচনে দলীয়(নৌকা) প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আ’লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা করেন। তিনি উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারি, হাট-বাজার, টোল, বালু নিলামের একক নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত। দুইবার পৌর মেয়র হয়ে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছে।
“কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সম্পদের পাহাড়” কথাটি কেন? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা পারিবারিক ভাবে একজন সম্ভ্রান্ত-স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান। তিনি ১৯৮৯ সাল থেকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের একজন নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। তরুন বয়স থেকে কাঠ-ব্যবসা, ঠিকাদারি, পরিবহণ, ইটভাটাসহ নানামুখী অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত। ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান ছিলেন। দশম ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দলের স্বার্থের জন্য নিজের অর্ধেক সম্পদ বিক্রি করেছিলেন। দুঃসময়ে দলের কর্মীদের সহযোগিতা করেছেন। শিক্ষানুরাগী, দানবীর এবং সমাজ হিতৈষী ব্যক্তিত্ব নামে তিনি সকলের কাছে সুপরিচিত।
এছাড়া পার্বত্য জেলা পরিষদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের প্রভাব বিস্তার ও অনৈতিক কর্মকান্ডের অনিয়ম-দূর্নীতি অভিযোগ আনা হয়েছে, সম্পূর্ণ ডাহা মিথ্যা ও বানোয়াট। সংসদ সদস্য নিয়োগে হস্তক্ষেপ করার কোন সুযোগ নেই। বেশিরভাগ সরকারি নিয়োগ ‘পার্বত্য জেলা পরিষদ’র আইনী প্রক্রিয়াতেই সম্পন্ন হয়।
টিআর-কাবিখা-কাবিটাসহ অন্যসব সরকারি বরাদ্দে সংসদ সদস্যের অনুকুলে হলেও বাস্তবায়ন করেন সরকারের উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
পরিষদে সদস্য নিয়োগের বিষয়টি পার্বত্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এখতিয়ার। এটি একটি আজগুবি অভিযোগই বটে।
এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা’র সাজেকে যে ৩৫ একর টিলাভূমির ওপর দুটি রিসোর্টের কথা বলা হয়েছে সেটিও সব মিথ্যা। বাস্তবে ৩৫ এর বিপরীতে মাত্র ৫ টিলাভূমির ওপর নির্মিত রিসোর্টটি একটি অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়বদ্ধ বলে জানান।






















