।।নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বাচ্চার খাবার খেয়ে ফেলায় গৃহকর্মী হেনাকে মারধর করেন গৃহকর্ত্রী সাথী আকতার পারভীন ডলি। এরপর শ্বাসরুদ্ধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করেন সাথী। গৃহকর্ত্রী সাথী আকতার পারভীন ডলিকে গ্রেফতারের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের পর সাথী জানান, পুলিশের হাতে গ্রেফতার এড়াতে লাশ ও তার মোবাইল ফোন বাসায় রেখে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার পর সাথী বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেরিয়েছেন। তবে এই সময়টুকুতে তিনি বিভিন্ন দোকান ও ব্যক্তির ফোন থেকে তার স্বজনদের কল করতেন।
রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ডিএমপির রমনা বিভাগের ডিসি আশরাফ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
এর আগে যশোর থেকে সাথীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে তাকে ঢাকায় আনা হয়।
তিনি বলেন, সাথী পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে শিশু গৃহকর্মী হেনাকে লাঠি খুন্তী দিয়ে পিটিয়েছে। সেদিন মেয়েটি তার বাচ্চার জন্য খাবার খেয়ে ফেলায় সে মারধর করে। মেয়েটিকে নির্যাতনের ফলে মারা যায়।
তিনি আরো বলেন, এত নৃসংশভাবে তাকে মারধর করা হয়েছে যার চিহ্ন পাওয়া যায় তার বেডের মধ্যে। সেখানে মেয়েটির পায়খানা পাওয়া গেছে। তার নির্যাতন সইতে না পেরে মেয়েটি বেডে পায়খানা করে ফেলে।
তিনি জানান, সাথী একজন বিএসসি প্রকৌশলী। তিনি একজন সার্ভেয়ার হিসেবে এলজিইডিতে কর্মরত ছিলেন। তার এক স্বামী ডাক্তার ছিল। আরেক স্বামী ছিল এলজিইডির গাড়ী চালক। ডলি প্রথমে এলজিইডিতে কম্পিউটার টাইপিং পোস্ট ঢোকেন৷ এরপর পড়াশুনা করে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগদান করেন। গৃহকর্মী হেনাকে সাথী
গত তিন বছর আগে বিসিকের একজন কর্মচারীর মাধ্যমে মুক্তাগাছা থেকে তার বাসায় এনেছিলেন।
তিনি আরো জানান, সাথী গ্রেফতার এড়াতে তার মোবাইল ফোন বাসায় রেখে পালিয়ে যান। তাকে যেনো কোনোভাবে প্রযুক্তির আওতায় ধরা না যায় তার জন্য তিনি পালানোর সময়টুকুতে বিভিন্ন ব্যক্তির নম্বর থেকে স্বজনদের সাথে ফোনে কথা বলতেন।
এসময় ডিসিকে প্রশ্ন করা হয় সাথী নিজেকে সরকার দলীয় নেত্রী বলে ভবনটিতে থাকা লোকজনদের পরিচয় দিতেন। এর জবাবে তিনি বলেন, আমরা তাকে অপরাধী হিসেবে দেখছি, কোনো রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নয়।






















