আজ ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ও ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বাবার মরদেহ বাসায় রেখে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ মেয়ের

  • In শিক্ষা, সারাবাংলা
  • পোস্ট টাইমঃ ১৭ আগস্ট ২০২৩ @ ১০:৫৩ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ১৭ আগস্ট ২০২৩@১০:৫৭ অপরাহ্ণ
বাবার মরদেহ বাসায় রেখে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ মেয়ের

।।স্টাফ রিপোর্টার।।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের দোলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহেদ আলী (৫০) গত বুধবার রাতে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে মারা যান। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে তার জানাজা নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু তার একমাত্র মেয়ে শাহনাজ পারভীনের আজ এইচএসসি পরীক্ষা। বাবার মৃতদেহ রেখে পরীক্ষা দিতে চাচ্ছিলোনা শাহনাজ।

বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় সারা দেশের ন্যায় লালমনিরহাট হাতীবান্ধা মহিলা ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মেয়ে শাহানাজ পারভীন। সে উপজেলার সরকারি আলিমুদ্দিন কলেজের এ বছর বিজ্ঞান বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। পাড়া ও প্রতিবেশী স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম। এদিকে শাহানাজ পারভীন বাবার মরদেহ বাড়ির উঠানে রেখে ২০ কিলোমিটার দূরে উপজেলা সদরে এসে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে।

মৃত শাহেদ আলীর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে শাহানাজ বাবার ইচ্ছা পূরণে সে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বাবাকে হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে সে পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষা শেষে শাহানাজ বাড়ি ফিরলেই বাবার দাফনের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

শাহানাজের বাবা শাহেদ আলী একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ হলেও কাঠের ব্যবসা করে মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। পারিবারিকভাবে অস্বচ্ছল থাকা সত্বেও মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বাবার প্রবল ইচ্ছার জেরে শাহানাজ এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। মেধাবী শাহনাজ পারভীন বড় খাতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি আলিমুদ্দিন ডিগ্রী কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি হন।

পরীক্ষায় অংশ নেয়ার আগে শাহানাজ পারভীন কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, বাবার ইচ্ছা পূরণ করতে বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে যাচ্ছি, হয়তো ভালো রেজাল্ট আসবে না।

হাতীবান্ধা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মোতাহার হোসেন লাভলু বলেন, বাবাকে হারানো যে কোনো সন্তানের জন্য খুবই কষ্টদায়ক। এরপরও শাহানাজ বাবা হারানোর কষ্ট বুকে নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। আমরা তার পরীক্ষার সময় যতটা মানসিক সহযোগিতা দরকার তা করছি।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজির হোসেন বলেন, শাহানাজ পরীক্ষায় যেন অংশগ্রহণ করে এজন্য সান্ত্বনা দিয়েছি এবং পরীক্ষা দিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

শিরোনামঃ