আজ ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ও ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

চট্টগ্রামসহ পার্বত্য এলাকায় ১১ লাখ মানুষ পানিবন্দি

  • In জাতীয়
  • পোস্ট টাইমঃ ১৩ আগস্ট ২০২৩ @ ০৬:২৪ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ১৩ আগস্ট ২০২৩@০৬:২৪ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামসহ পার্বত্য এলাকায় ১১ লাখ মানুষ  পানিবন্দি

।।নিজস্ব প্রতিবেদক।।

চলতি মাসের শুরু থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় রেকর্ড বৃষ্টিপাতের কারনে হঠাৎ বন্যা ও শহরে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম। তার পরেই রয়েছে যথাক্রমে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি। এছাড়া ফেনীতেও বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ পর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা শিবিরের ২৫ হাজার বাসিন্দাও রয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষদের জন্য সরকারি ত্রাণভান্ডার থেকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এনডিআরআরসিসি) এর দুর্যোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিবৃষ্টির কারনে সৃস্টি হওয়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছয়টি জেলা। ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে চট্টগ্রামের পরেই রয়েছে যথাক্রমে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও ফেনী।

জেলা প্রশাসন থেকে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো পত্রে জানানো হয় অতিবর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকাসহ চট্টগ্রাম জেলার ১৪টি উপজেলা ও ১৬২টি ইউনিয়নে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বেশ কিছু রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। জেলায় বর্তমানে ২ লাখ ৩ হাজার ৭২টি পরিবার পানিবন্দি এবং পানিবন্দি লোকসংখ্যা ৮ লাখ ৪৩ হাজার ৫০৫ জন। এ জেলায় ৭৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে ৭,৫১৩ জন লোক এবং ৫১৩টি গবাদিপশু আশ্রয় গ্রহণ করেছে।

কক্সবাজার জেলায় উপদ্রুত উপজেলার সংখ্যা ৮টি, পানিবন্দি পরিবার সংখ্যা ৫৪ হাজার ৫০টি এবং ক্ষতিড়গ্রস্ত লোকসংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজার ২৭০ জন। জেলায় ১৫৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রসমূহের বর্তমানে ২৮,৩৭০ জন লোক ও ৫৭০টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।

বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলার ৩৪ ইউনিয়নে জলাবদ্ধতার কারনে ২০৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং সেখানে ৮,৫০০ জন লোক আশ্রয় নিয়েছে। রাঙ্গামাটি জেলায় অতিবর্ষনণের কারনে ৪৬টি স্থানে ক্ষুদ্র পরিসরে পাহাড়ধসের সৃষ্টি হয়েছে। ৪৬টি ঘর ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১টি ঘরও রয়েছে। ২টি ব্রীজ-কালভার্ট ও বিভিন্ন স্থানে পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ৩টি বিদ্যুতের খুটি উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এ জেলায় ২৩৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে ১,১৯১ জন লোক অবস্থান করছেন। ঝুকিপূর্ণ এলাকায় মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় খাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা-ঘাট তাৎক্ষণিকভাবে যান চলাচলের উপযোগী করে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। সকল দপ্তরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে, ইমার্জেন্সি রেসপন্স টীম এবং স্বেচ্ছাসেকবদের সর্বদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এছাড়া ফেনী কয়েক দিন টানা বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর বরইয়া এবং উত্তর দরতপুরে অবস্থিত মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙ্গে উত্তর বরইয়া, দক্ষিণ বরইয়া, বিজয়পুর, পূর্ব ঘনিয়ামোড়া, দক্ষিণ শ্রীপুর (সদর বাজার) প্লাবিত হয়। প্লাবিত এ এলাকায় প্রায় ৫০০ টি পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। পরশুরাম উপজেলায় চিখালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম এলাকায় অবস্থিত মুহুরী নদীর আংশিক বাঁধ ভেঙ্গে নোয়াপুর, পশ্চিম অলকা, ধনিকুণ্ডা গ্রাম প্লাবিত হয়। প্লাবিত এ এলাকায় প্রায় ৪০০ টি পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। উল্লেখ্য জলমগ্ন এ এলাকায় প্রায় ৫০০ হেক্টর ফসলি জমি ও ৩০ হেক্টর সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতি মন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছি। আমাদের আরও খাদ্য ও ত্রাণসহায়তা প্রস্তুত আছে। তিনি বলেন, মাঠ প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা দিতে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেনা ও নৌবাহিনী মোতায়েন করায় তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দুর্গত এলাকার মানুষকে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়েছেন। সেখানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চলমান। তিনি বলেন, পানি কমতে শুরু করেছে। নতুন করে আর বন্যার আশঙ্কা নেই।

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

শিরোনামঃ