আজ ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ও ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ২৬শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

পাখি বিক্রি করে সংসার চলে হাছিবের

পাখি বিক্রি করে সংসার চলে হাছিবের

রায়হান হোসাইন
চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি।।

পশুপাখি পালনের শখ সকলের নেই। কেননা সবার হাতে পশুপাখি হয় না কিংবা পোষ মানেনা। পোষ মানুক আর না মানুক, পালতে হলে পশুপাখি কিনতে হবে পাখি বিক্রির বাজার থেকে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে না গিয়ে, বাড়ির সামনে বিক্রির জন্য পাখিভর্তি খাঁচা নিয়ে হাঁক দেয় হাছিবের মত যুবকেরা। চট্টগ্রামের আখতারুজ্জামান সেন্টারের সামনে মিলেছে এমন এক পাখি বিক্রেতা।

ছোট বাঁশে পাখি ভর্তি খাঁচা ঝুলিয়ে শহরের পথে পথে বিক্রির উদ্দ্যেশে ঘুরে বেড়ায় খুলনার হাছিব। প্রতিদিন সকালে পাখি ভর্তি খাঁচা বাঁশে ঝুলিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে সে। তবে গন্তব্য কোথায় সে নিজেও জানেনা। হাছিবের কালেকশনে রয়েছে শালিক, টিয়াসহ দেশি বিদেশি হরেক রকমের পাখি। তার কালেকশনে মুগ্ধও ক্রেতারা।

জানা গেছে, পাখি বিক্রেতা যুবক হাছিব তার এই পাখীগুলো কালেকশন করে খুলনা থেকে। মাঝে মাঝে রিয়াজউদ্দিন বাজার থেকেও পাখি সংগ্রহ করে হাছিব। তার কালেকশনের কারণে এমনও ক্রেতা রয়েছে যারা শুধুমাত্র হাছিবের কাছ থেকে পাখি কিনে থাকেন। তবে হাছিবের কাছে বিদেশি পাখির কালেকশন থাকায় বিক্রিও ভালো। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার পাখি বিক্রি করে হাছিব। বিক্রির টাকা দিয়ে চলে সংসার। পূঁজি থাকলে হয়তোবা রিয়াজউদ্দিন বাজারে পাখি মার্কেটে দোকান নিয়ে ব্যবসা করতো সে। কিন্তু আর্থিক টানাপোড়নের কারণ পড়াশোনা আর করা হয়নি। তাতে কি, শখের ব্যবসা পাঁয়ে হেঁটে চালাচ্ছে হাছিব। দোকান কেনার পূঁজি না থাকলেও বর্তমানে তার ব্যবসার পূঁজি হলো হাঁটা। এ পূঁজিতে পাখি বিক্রি করে খুশি হাছিব।

হাছিব বলেন, একলা মানুষ দুই একটা পাখি বিক্রি করে কোনমতে চলি আর কি। বাড়িতে টাকা পাঠাতে হয়না আমার। দিনে দুই আড়াই হাজার টাকার পাখি বিক্রি করতে পারলে পাঁচ সাতশ টাকা পাই আর এই দিয়ে কোন রকম দুবেলা দুমুঠো খেয়ে পড়ে বেঁচে আছি।

সচেতন মহল মনে করেন, এইসব ব্যবসায়ীদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করা হলে টিকে থাকবে এ পেশা, আর তৈরী হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের।

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

শিরোনামঃ