।।ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক।।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব মঙ্গলবার তুলতে যাচ্ছে বিরোধী দলগুলো। প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে এই প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের সূচনা করবেন সদ্য পার্লামেন্টে ফেরা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব সামনে রেখে মঙ্গলবার পার্লামেন্টারি দলের বৈঠক ডেকেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। এই প্রস্তাব নিয়ে বুধ ও বৃহস্পতিবারও আলোচনা এবং বিতর্ক চলবে। শেষে ভোটাভুটিতে নিস্পত্তি হবে এই প্রস্তাবের।
বাস্তবতা অনুযায়ী বিরোধীদের এই প্রস্তাব পার্লামেন্টে পাস হওয়ার সম্ভাবনা নেই। মূলত মনিপুরে চলমান সহিংসতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পার্লামেন্টে মুখ খোলাতেই এই প্রস্তাব আনা হচ্ছে। পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশনের পুরোটা জুড়ে বারবার ফিরে এসেছে মনিপুর ইস্যু।
গত ২০ জুলাই শুরু হওয়া এই অধিবেশন বারবার বিরোধীদের প্রতিবাদে বিঘ্নিত হয়েছে। সরকারের দীর্ঘ তালিকার অল্প কয়েকটি বিলই কেবল পাস করা গেছে।
বিরোধীরা মনিপুর নিয়ে আলোচনার দাবি জানাচ্ছেন। তাদের মতে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। সরকার এতে একমত হয়েছে। তবে তারা স্পষ্ট করে বলেছে, প্রধানমন্ত্রী এই ইস্যুতে পার্লামেন্টে কথা বলবেন না। আর এটাই বিরোধীদের সবচেয়ে বড় দাবি।
অনাস্থা প্রস্তাবের বিতর্কে বক্তব্য রাখবেন পাঁচ মন্ত্রী। তারা হলেন- অমিত শাহ, নির্মলা সীতারমন, স্মৃতি ইরানি, জ্যেতিরিন্দ্র সিন্ধিয়া এবং কিরেন রিজু। এছাড়া বিজেপির পাঁচ আইনপ্রণেতাও বিতর্কে অংশ নেবেন।
ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারের দাবি মনিপুরে বড় সহিংসতার ঘটনা ঘটে ১৯৯৩ ও ১৯৯৭ সালে। এর একটি ঘটনায় পার্লামেন্টে কোনো বিবৃতি দেয়া হয়নি আর অন্য ঘটনায় জুনিয়র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিবৃতি দেন। সূত্রের বরাতে এনডিটিভি বলেছে, সরকারের অবস্থান হলো অতীতে কোনো নজির না থাকায় প্রধানমন্ত্রীকে বিবৃতি দিতে বলার কোনো কারণ নেই।
তবে বিরোধীরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলছেন, গত মে মাসে মনিপুরে শুরু হওয়া সহিংসতায় ১৭০ জনের বেশি নিহত, হাজার হাজার মানুষ আহত ও বাস্তুচ্যুত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির জন্য এর চেয়ে বড় কোনো ইস্যু নেই।
দিল্লি সার্ভিস বিল সংক্রান্ত এক আলোচনায় সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অভিযোগ করেন বিরোধীরা মনিপুর নিয়ে বিতর্ক থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অমিত শাহ বলেন, ‘প্রশ্ন হচ্ছে মনিপুরের অবস্থা এবং সরকার সেখানে কী পদক্ষেপ নিয়েছে, ভোটের শক্তি দেখানো নয়। আপনারা ভোট চাইলে, বলে দিতে পারি এই বিল ভোটে পরাজিত হবে।’
২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলেগু দেশম পার্টি। এই প্রস্তাব হেরে যায়। সরকার ৩২৫ ভোট পায় আর প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে মাত্র ১২৬টি।
এইবার পার্লামেন্টে বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৫৭০। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২৭০ ভোট। ক্ষমতাসীন জোট এনডিএ ৩৩২ ভোটের আশা করছে। এর পাশাপাশি উড়িষ্যার ক্ষমতাসীন বিজু জনতা দল এবং অন্ধ্র প্রদেশের ওয়াইএসআর কংগ্রেস এনডিএ জোটকে সমর্থন দিচ্ছে। যৌথভাবে উভয় দলের ৩৪ আইনপ্রণেতা রয়েছে। এনিয়ে সরকারের মোট ভোট সংখ্যা ৩৬৬তে পৌঁছাবে। আর সম্মিলিত বিরোধী জোট ইনডিয়ার মোট আইনপ্রণেতার সংখ্যা ১৪২।






















