।।নিজস্ব প্রতিবেদক।।
শুক্রবার, দুপুর ২.৩০টায় সমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা। তিন দফা দাবিতে এই সমাবেশ। সমাবেশ থেকে কেয়ারটেকার সরকার পুনর্বহাল, জামায়াত আমীরের মুক্তি এবং সরকারের পদত্যাগের দাবি তোলা হবে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আগামীকালের সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। সমাবেশ সফল করতে দুই মহানগরী দফায় দফায় বৈঠক, প্রচারপত্র বিলি এবং সমাবেশ সফল করতে উপ-কমিটি, সমন্বয় কমিটি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কমিটি গঠন করেছে। তবে জামায়াতের বিরুদ্ধে আইনি খড়গ জোরালো হচ্ছে। তাদের সভা-সমাবেশে আইনি নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৪ জুলাই জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান তিন দফা দাবি আদায়ে একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করেন। গত ২৮ জুলাই সারা দেশের মহানগরীগুলোতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত নেতাকর্মীরা। এরপর গত ৩০ জুলাই জেলা শহরগুলোকে একই দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াত। সে সময় বহু জামায়াগ নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গত ১০ জুন রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সমাবেশ করেছে। ১ আগস্টের সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন।
৪ আগস্টের সমাবেশ নির্বিঘ্নে করার জন্য জামায়াত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেছে। দলটির আশা, সমাবেশ সফল করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ১০ জুনের মতো সহযোগিতা করবেন। তবে এরইমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সভা-সমাবেশসহ সব রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারকের আপিল বেঞ্চ আগামী বৃহস্পতিবার শুনানির এই দিন ধার্য করে দিয়েছে।
আবেদনকারী পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী তানিয়া আমীর। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াত ৪ আগস্ট সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। তাই দ্রুত আবেদনটির ওপর শুনানি হওয়া দরকার। সে সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, “আগামী বৃহস্পতিবার আবেদনটি কার্যতালিকায় ৩৫ ক্রমিকের মধ্যে থাকবে।”
তরীকত ফেডারেশনের নেতা রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ কয়েকজনের আবেদনে এক দশক আগে নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেছিল হাই কোর্ট। তারপর থেকে জামায়াত দলীয় পরিচয়-প্রতীক নিয়ে কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। হাই কোর্টের দেওয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামায়াত। সেই আবেদন আপিল বিভাগে বিচারাধীন।বিচারাধীন এই আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী যেন সভা-সমাবেশ, মিছিলসহ কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে না পারে, সেই বিষয়ে এই নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গত ২৬ জুন আপিল বিভাগে এই নতুন আবেদন করা হয়।
এছাড়া আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সমাবেশ করে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন দাবি করায় আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে আলাদা একটি আবেদন করেন রেজাউল হক চাঁদপুরী। তার পক্ষে আবেদন দুটি করেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর। আবেদনে বলা হয়, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল সংক্রান্ত হাই কোর্টের রায় এখনও বহাল রয়েছে। রায় বহাল থাকাবস্থায় গত ১০ জুন দলটি ঢাকায় সভা-সমাবেশ করেছে।
“উচ্চ আদালতের রায়ের পর দলটির এ ধরনের কর্মসূচি পালন বেআইনি। একইসঙ্গে উচ্চ আদালতের রায়ের লঙ্ঘন। কারণ রায়ে বলা হয়েছে, দল হিসাবে জামায়াতের নিবন্ধন সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের পরিপন্থী। অতএব কোনোভাবেই দলটি সভা-সমাবেশ করার অনুমতি পেতে পারে না।” আগামী বৃহস্পতিবারের পর জামায়াত আর সভা-সমাবেশ করতে পারবে কিনা, আপিল শুনানির ওপর তা নির্ভর করছে।





















