আজ ২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে পশ্চিমারা কেন নীরব

  • In জাতীয়, শীর্ষ
  • পোস্ট টাইমঃ ২৪ জুলাই ২০২৩ @ ০৭:০৫ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ২৪ জুলাই ২০২৩@০৭:০৫ অপরাহ্ণ
নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে পশ্চিমারা কেন নীরব

।।কূটনৈতিক প্রতিবেদক।।

ইউরোপ-আমেরিকার রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠান অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক করার জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছে। সামনে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিতের জন্য তারা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপও প্রস্তাব করেছে। এদিকে দেশের বড় দুইটি রাজনৈতিক দল আগামী নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা ইস্যূতে পরস্পর অনঢ় অবস্থান নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন যে আগামী নির্বাচন ইস্যূতে বিদেশিরা তৎপর হলেও নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে তাদের কোনো কহিতব্য নেই। এক্ষেত্রে ভিয়েনা কনভেনশন পশ্চিমাদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনীতি ও কূটনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, আসলে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে নিজেদের সংকট নিজেদেরই মেটাতে হবে। এজন্য কার্যকর সংলাপের প্রস্তাব দিচ্ছেন তারা।

ক্ষমতাসীন দলের উপর প্রথমবারের মতো বিদেশি চাপ দৃশ্যমান হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে। সে সময় মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগে র‍্যাবের ছয় কর্মকর্তার উপর স্যাংশন দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি সরকারকে বেশ নাড়া দিয়েছিলো। তার পরের বছরই তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ বিভিন্ন দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে সরকার বিরোধী শক্ত কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারা দলটির বিভাগীয় সমাবেশগুলোতে ব্যাপক লোকসমাগম দেখা যায়। এরমধ্যেই গেলো মে মাসে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করে মার্কিন সরকার। এরপর থেকেই বাংলাদেশে কর্মরত ইউরোপ-আমেরিকার কূটনীতিকরা আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের সকলেই আগামী নির্বাচন শান্তিপূর্ণ দেখতে চায় বলে একাধিকবার বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করছেন। সেসব বৈঠকে কূটনীতিকরা আগামী নির্বাচনের পরিবেশ এবং নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কিনা এসব বিষয়ে জানার চেষ্টা করছেন। সর্বশেষ ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক গত রোববার জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদেরের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠান অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক করতে উৎসাহ দেয় ব্রিটেন। বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলো থেকে নিয়মিতভাবে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বার্তা দিচ্ছেন। তবে নির্বাচনকালীন সরকারপদ্ধতি কেমন হবে; তা নিয়ে টু শব্দটিও করেনি পশ্চিমারা। যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়া বাংলাদেশ সফরে এসে গত ১৩ জুলাই সাংবাদিকদের স্পষ্ট করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ হওয়া উচিত কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ ইস্যূতে নাক গলাবে না। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

ঢাকার কূটনীতিক সূত্র বলছে, বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে আগামী নির্বাচন ইস্যূতে প্রচুর উৎসাহ রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের সময় সরকারপদ্ধতি কোন ব্যবস্থার হবে তা নিয়ে বড় দুইটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে মত-পার্থক্য রয়েছে। যা গত সপ্তাহে এই দুইটি রাজনৈতিক দলের সমাবেশ থেকে প্রকাশ পেয়েছে। দুইটি দলই তাদের ঘোষিত এক দফা দিয়ে অনঢ় অবস্থানে রয়েছে। তবে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকরা কোনো আগ্রহ প্রকাশ করছেন না। যার নেপথ্যে রয়েছে ভিয়েনা কনভেনশন। নির্বাচনের সময় কোন পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা থাকবে তা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এই বিষয়ে বিদেশিরা মন্তব্য করতে পারে না। আবার জাতিসংঘ চাইলেই চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে উদ্যোগ নিতে পারবে না। সরকারের তরফ থেকে চাওয়া হলেই জাতিসংঘ উদ্যোগ নিতে পারবে।

বিদেশিরা যাতে সীমা লঙ্ঘণ না করেন এবং ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী সংযত আচরণ করেন এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনের দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি উদ্বেগ প্রকাশ করলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে ডেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এরপর জাতিসংঘের ব্রিফিংয়ে অসন্তোষ প্রকাশের ঘটনাকে স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত চালর্স হোয়াইটলি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমরা চাই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ হোক। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠান প্রয়োজন। ইইউ রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে বসার আহ্বান জানায়, তবে আমরা এর মধ্যে অংশ নিতে চাই না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিএনপি আশা করেছিল যে ইউরোপ-আমেরিকা তাদের মতোই কথা বলবে কিন্তু পশ্চিমারা পরিস্কার করেছে যে তারা নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আগ্রহী না। ইউরোপ-আমেরিকা এমন নির্বাচন চায় যেখানে জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। নির্বাচনে কে আসল বা না আসল তা বিদেশিদের দেখার বিষয় না।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights