আজ ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১২ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

নৌকাডুবিতে ৪ গোয়েন্দার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

  • In আন্তর্জাতিক
  • পোস্ট টাইমঃ ৩ জুন ২০২৩ @ ০৯:২৯ পূর্বাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ৩ জুন ২০২৩@১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
নৌকাডুবিতে ৪ গোয়েন্দার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

।।ইনটারন্যাশনাল ডেক্স।।

গোয়েন্দা উপন্যাসের উপাদান মিলেছে গত ২৮ মে ইতালির লেক মাগোরিতে এক নৌকাডুবির ঘটনায়। সুইস আল্পস পর্বতমালার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রটিতে ওই ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়। এদের একজন ছিলেন ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক এক এজেন্ট, ইতালির দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং চতুর্থ জন ছিলেন এক রুশ নারী। পর্যটন নৌকাটিতে মোট ২৩ আরোহী থাকলেও মৃত্যু হয় ওই চার জনের।

ঘটনাটি দুঃকজনক হলেও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্য সামনে আসায় আসলে কী ঘটেছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। লেক মাগোরি এবং এর তীরের পাশ দুই অঞ্চলে বিভক্ত- ইতালির লোম্বারদে অ্যান্ড পাইডমন্ট এবং সুইজারল্যান্ডের টিচিনো। লোম্বারদেতে সামরিক এবং বেসামরিক প্রযুক্তি তৈরির বেশ কয়েকটি কোম্পানি রয়েছে। আর বহু গোয়েন্দা সদস্য দেশের জন্য ট্রানজিট হিসেবে বিবেচিত হয় সুইজারল্যান্ড। নৌকাটির আরোহীদের অনেকেরই ওই এলাকায় অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা বাড়ি রয়েছে।

ইল কোরিরে ডেলা সেরা সংবাদপত্র জানিয়েছে, ওই এলাকায় স্বাধীনভাবে চলাফেরার নিশ্চিত করে ইতালি ও ইসরায়েল সরকার। বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন বলছে, ওই নৌকায় চড়ার ঘটনাটি নিছকই বিনোদন ভ্রমণ। তবে ইতালির বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এটা ছিল ইতালি ও ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের কাজ সংক্রান্ত গোপন বৈঠক।

ওই দুর্ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং আসলে কী ঘটেছে তা খুঁজে বের করতে পাবলিক প্রসিকিউটর কারলো নোসেরিনোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ওই নৌকায় আরোহীদের মধ্যে ১৩ জন ইতালীয় এজেন্ট ও আটজন ইসরায়েলি এজেন্ট ছিলেন। কেবল নৌকার ক্যাপ্টেন ক্লদিও কারমিনাতি এবং তার রুশ স্ত্রী পেশায় ছিলেন না।

নৌকার কোনো এক আরোহীর জন্মদিন পালনের কথা ছিল। ১৫ মিটার দীর্ঘ নৌকাটি প্রমোদ ভ্রমণের জন্য ব্যবহার হতো। কিন্তুটি নৌকাটি হঠাৎ প্রবল ঝড়ের মুখে পড়ে। ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বাতাসের বেগের মুখে পড়ে নৌকাটি।

পরবর্তীতে ক্যাপ্টেন কারমিনাটি ইতালির ইল কোরিরে ডেলা সেরা সংবাদপত্রকে বলেন, ‘৩০ সেকেন্ডের ব্যাপার, আমাদের ওপরে বিপর্যয় নেমে আসে। নৌকা তখনই ডুবে যায় আর আমরা পানিতে পড়ে যাই।’ ক্যাপ্টেন তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, খারাপ আবহাওয়ার কোনো পূর্বাভাস ছিল না। নৌকাডুবিকে এখন সম্ভাব্য অপরাধ ও খুনের ঘটনা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।

ক্যাপ্টেন কারমিনাটির স্ত্রী ৫০ বছরের রুশ নারী আন্না বোজকোথার ইতালিতে বসবাসের অনুমতি ছিল। নিহতদের মধ্যে ইতালির দুই এজেন্ট হলেন তিজিয়ানা বারনোবি (৫৩) এবং ক্লদিও আলোনজি (৬২)। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৫০ বছরের ইসরায়েলি পুরুষ সিমোনি ইরেজ। তিনি মোসাদ এজেন্ট হিসেবে অবসর নিয়েছেন। ইতালির সংবাদপত্রে তার নাম প্রকাশ হয়েছে কিন্তু ইসরায়েল এখনো তা প্রচার থেকে বিরত রয়েছে।

নৌকার অন্য আরোহীরা সাঁতার কেটে তীরে পৌঁছাতে কিংবা উদ্ধারে এগিয়ে আসা অন্য নৌকায় উঠে পড়তে সক্ষম হন। তাহলে ওই চারজন কেন পারলেন না তানিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। তাদের চারজনের মৃত্যুর কারণও এখন অজানা। ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, তাদের কোনো পোস্ট মর্টেম করা হয়নি।

সামনে আসছেন না বেঁচে যাওয়ারা

নৌকাডুবির ঘটনাটি নিয়ে এত রহস্যের অন্যতম কারণ হিসেবে ইতালীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, দুর্ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে বেঁচে ফেরাদের তাড়াহুড়া করতে দেখা যায়। এসব সংবাদমাধ্যম বলছে, বেঁচে যাওয়ারা দ্রুত তাদের সঙ্গে জিনিসপত্র হোটেল থেকে নিয়ে নেয় আর চিকিৎসার পরপরই হাসপাতাল ছেড়ে যায়। কারা চিকিৎসা নিয়েছেন তার তথ্যও সংরক্ষণ করা নেই। ইসরায়েলিরা তাদের ভাড়া করা গাড়ি ছেড়ে দেয়। আর সোমবারই মিলান থেকে তাদের উড়িয়ে নিয়ে যায় একটি ইসরায়েলি উড়োজাহাজ। তাদের নামও প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইসরায়েলি প্রসিকিউটর নোসেরিনো দাবি করেছেন, হতাহতের নাম প্রকাশই স্বাভাবিক, বেঁচে যাওয়াদের নয়।

বুধবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় নিশ্চিত করেছে ওই ঘটনায় মৃত ব্যক্তি ছিলেন মোসাদের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। কার্যালয়টির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মোসাদ এক প্রিয় বন্ধু, ত্যাগী এবং এক পেশাদার সদস্য হারিয়েছে। তিনি ইসরায়েল রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় কয়েক দশক ধরে জীবন উৎসর্গ করেছেন। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংস্থায় তার দেয়া সেবার কারণে তার পরিচয় বিস্তৃত করার উপায় নেই।

দুর্ঘটনায় পড়া নৌকাটিকে এখনও তীরে নেয়া হয়নি। এর অর্থ তদন্ত ভালোভাবে শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর নোসেরিনো। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এটা লেকের তলদেশে আটকে আছে আর উপরে তুলতে তিন থেকে চারদিন লাগতে পারে। নোসেরিনো জানান, নৌকাটির ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ১৫ জনের। কিন্তু আরোহী ছিল আরও আটজন বেশি।

খবরে বলা হচ্ছে, নৌকায় আরোহী বেশি হলে বিপজ্জনক আবহাওয়ায় তা পরিচালনা করা ক্যাপ্টেনের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। নৌকায় বেশি আরোহী ওঠার অনুমতি কেন দেয়া হয়েছিল তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এছাড়া বাজে আবহাওয়ার মুখে নৌকাটি কিভাবে পড়লো তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এসআর/তারিখ:০৩০৬২৩/৯:২৯

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights