।।বগুড়া প্রতিনিধি।।
বিএনপি ও জামায়াতসহ সমমনা দলগুলোর ডাকা হরতাল-অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকরা। দেয়ালে তাদের পিঠ ঠেকে গেছে।
আজ রোববার (২৬ নভেম্বর) থেকে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে একমত হয়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। যানবাহন চলাচলে সহযোগিতা করবে পুলিশ। সড়কে অগ্নিসন্ত্রাস ঠেকাতে নানা পরামর্শ দিয়েছেন বগুড়ার পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি) সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বিপিএম, পিপিএম।
শনিবার (২৫ নভেম্বর) পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভা কক্ষে বগুড়া জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ পরিবহন মালিক সমিতি এবং বগুড়া জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা বলেন, আমাদের কোন দল নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠে কর্মের টানে ঘর থেকে বের হই। হরতাল-অবরোধে পরিবহনে অগ্নিসন্ত্রাস করা হচ্ছে। যেন পরিবহনের সাথে যুদ্ধ। এসব আর মেনে নেওয়া যাবেনা। এখন আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। পরিবহন চলাচল সচল রাখতে যা যা করনীয় মালিক ও শ্রমিক নেতারা একমত পোষন করেছেন।
যেকোন প্রয়োজনে জেলা পুলিশ প্রস্তুত উল্লেখ করে হরতাল-অবরোধ চলাকালে জেলা পুলিশের নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অবহিত করেন পুলিশ সুপার। যেকোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হরতাল-অবরোধে পরিবহন বা স্থাপনা ভাংচুর, অগ্নিসংযোগকারীদের উপযুক্ত প্রমাণসহ ধরিয়ে দিলে অথবা সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে ২০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের তথ্যটি সবাইকে অবগত করেন। তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছেন বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী।
এছাড়া পরিবহন যাতায়াতের পূর্বে নিরাপত্তার স্বার্থে যাত্রীর ছবি উঠিয়ে রাখা, গাড়িগুলো নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিং ব্যবস্থা করা, সকাল-সন্ধ্যা ও রাত্রিকালীন সবসময় বাস-ট্রাক স্ট্যান্ডে পরিবহন মালিক সমিতি এবং মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের সক্রিয় অবস্থান নিশ্চিত করাসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামাদি রাখার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা বাস মিনিবাস ও কোচ পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি শাহ মো. আখতারুজ্জামান ডিউক, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হামিদ মিটুল, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু।
উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদ, মোতাহার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইহান ওয়ালিউল্লাহ, টিআই মাহবুব আলম প্রমূখ।





















