মিঠু মুরাদ
স্টাফ রিপোর্টার।।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের রাধানাথ গ্রামের আইনুল ইসলামের ছেলে রিমফু (২২) সম্প্রতি নানা কৌশলে প্রতিবেশী গৃহবধুর (২০) অশ্লীল/নগ্ন ভিডিও ধারণ করে তা দেখিয়ে জোরপূর্বক ওই গৃহবধূকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত ধর্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সময় ক্ষেপণ করছে প্রভাবশালীরা। ভুক্তভোগি ওই গৃহবধূ জানান, দিনমজুর স্বামী আশরাফুল ইসলাম সাথে ৪ বছর যাবত রাধানাথ গ্রামের বসবাস করে আসছেন তিনি।
গত ৪ মাস পূর্বে ওই এলাকার আইনুল ইসলামের ছেলে রিমফু (২২) ছেলে গোপনে মোবাইল ফোনে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। এরপর ওই ছবি ইন্টারনেটে ও স্বামীকে দেয়ার হুমকি দিয়ে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গৃহবধুর স্বামী প্রতিদিন বুড়িমারী স্থলবন্দরে লোড-আনলোডের কাজে যাওয়ার সুবাধে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করে রিমফু। যুবক রিমফু এভাবে একাধিকবার ধর্ষণ করে গৃহবধুর সাথে। এ সম্পর্ক চালিয়ে না গেলে ভিডিও ফেসবুকে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয় ও বেশ কয়েকটি চিঠি পাঠায়। ঘটনা কাউকে জানালে এসিড দিয়ে পুড়িয়ে মারারও হুমকি দেওয়া হয়। গত ২৮ অক্টোবর রাতে আবারও ইচ্ছের বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে বলে জানায় ওই গৃহবধু।
পরে ঘটনা তাঁর (গৃহবধুর) পরিবার ও গন্যমান্য ব্যক্তিদেরকে জানানো হয়। বর্তমানে রিমফু পলাতক রয়েছে। এ ঘটনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জানে। রিমফুর পরিবার এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরকে ম্যানেজ বা যোগসাজস করে গৃহবধুর পরিবারকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চাপ দেয় এবং সময় ক্ষেপন করে বলে গৃহবধুর পরিবার দাবি করেছে।
বাধ্য হয়ে বিচারের দাবিতে গত ৮ নভেম্বর গৃহবধু বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এখন পর্যন্ত থানা পুলিশ ঘটনার তদন্ত বা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে গৃহবধু জানায়।
এ ব্যাপারে শ্রীরামুপর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম প্রধান বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। দুই পক্ষের কেউ জানায়নি। তাছাড়া এগুলো সেনসিটিভ (স্পর্শকাতর) ব্যাপার এড়িয়ে চলি।’
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তাধীন রয়েছে।’





















