আজ ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ও ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ২৭শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

খুলনায় নৌকা ও পদ্মা সেতুর আদলে তৈরি হচ্ছে মঞ্চ

  • In জাতীয়
  • পোস্ট টাইমঃ ৭ নভেম্বর ২০২৩ @ ০৯:২৫ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ৭ নভেম্বর ২০২৩@০৯:৩০ অপরাহ্ণ
খুলনায় নৌকা ও পদ্মা সেতুর আদলে তৈরি হচ্ছে মঞ্চ
ছবি- বিডিহেডলাইন্স

মোহাম্মদ বাইজিদ
স্টাফ রিপোর্টার।।

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনায় আসছেন আগামী ১৩ নভেম্বর। ওই দিন দুপুর ২টায় খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালের ৩ মার্চ সার্কিট হাউজ মাঠে এক জনসভায় এসেছিলেন।
আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ওই জনসভাকে ঘিরে বিশাল শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটি। রাজনৈতিক সংকটময় মুহূর্তে ব্যাপক উপস্থিতির মধ্য দিয়ে নিজেদের জনসমর্থন জানান দিতে চায় তারা। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও প্রধানমন্ত্রীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নজর কাড়তে নিচ্ছেন নানা প্রস্তুতি।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করার জন্য গত প্রায় ১৫ দিন ধরে খুলনায় নগর, জেলা, থানা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডপর্যায়ে মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো প্রস্তুতি সভা, বর্ধিত সভা ও কর্মীসভা করছে। সাতটি উপ-কমিটি গঠন করে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। ইতোমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতা খুলনায় এসে প্রস্তুতি সভা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি নিজে উপস্থিত থেকে প্রস্তুতি তদারকি করছেন।

জনসভা সফলের জন্য সড়ক, নৌ ও রেলপথে নেতা-কর্মীদের আনার প্রস্তুতি চলছে। নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা করা হচ্ছে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রচার মিছিল, পোস্টার এবং মাইকিং করা হচ্ছে। সার্কিট হাউজ মাঠের আশপাশে বেশ কয়েকটি স্থানে প্রজেক্টরে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেখানো এবং নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং প্রধান প্রধান সড়কদ্বীপে আলোকসজ্জা করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
খুলনা নগর আওয়ামী লীগের উপপ্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক মো. মফিদুল ইসলাম টুটুল জানান, সার্কিট হাউসের পশ্চিম দিকের আবাহানী ক্লাব প্রান্তে মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। মঞ্চের উপরের দিকটা রেললাইনসহ পদ্মা সেতুর আদলে আর নিচের দিক করা হচ্ছে নৌকার আদলে

মূল মঞ্চ লম্বায় ৯০ ফুট ও চওড়ায় ৪০ ফুট। মূল মঞ্চের সামনে নৌকার আদলে ১২৫ ফুট লম্বা। মঞ্চের উচ্চতা সাড়ে ১৩ ফুট। মোট ৬০০ জন মঞ্চে বসতে পারবেন।সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে দিন-রাতকাজ করছেন ৬৫ জন শ্রমিক। সার্কিট হাউজের আশপাশের সড়কগুলোতে কার্পেটিং এবং চারপাশের ড্রেনের কাভারগুলো রঙ করা হচ্ছে। সার্কিট হাউজ মাঠে এনে রাখা হয়েছে অসংখ্য ভ্রাম্যমাণ টয়লেট।অপরদিকে দলীয় নেতাদের প্যানা ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে নগর। কে ডি ঘোষ রোড, লোয়ার যশোর রোড, হাজী মহসীন রোড, খুলনা-যশোর মহাসড়ক, কে ডি এ এভিনিউসহ বিভিন্ন স্থানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে কয়েকশ’ তোরণ। সরব হয়ে উঠেছে দলীয় কার্যালয়গুলো।
খুলনা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা জানান, আগামী ১৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে জেলা ও নগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফরকে ঘিরে নগরে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে।বাবুল রানা বলেন, জনসভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ১০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সার্কিট হাউজ মাঠ পরিপূর্ণ হওয়ার পর নেতা-কর্মীরা আশপাশের সড়কগুলোতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনবেন। জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকাগুলোতে মাইক দেয়া হবে। জনসভায় নেতা-কর্মীরা এক রঙের টি-শার্ট-ক্যাপ পরে আসবে।খুলনা নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট হরতাল-অবরোধ দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের স্রোত ঠেকাতে পারবে না। ১৩ নভেম্বরের জনসভা পরিণত হবে জনতার মহাসমুদ্রে। জনসভা সফলে সর্বাত্মক প্রস্তুতি চলছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৬ জানুয়ারি ব্যক্তিগত সফরে খুলনা এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দিঘলিয়া উপজেলার নগরঘাট এলাকায় তার মা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে কেনা পাট গোডাউন পরিদর্শন করেন এবং নগরীতে চাচার বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান।
এদিকে খুলনা জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন জানিয়েছেন, ১৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনায় ২২টি প্রকল্প উদ্বোধন ও ২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। প্রকল্পগুলোর তালিকা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

শিরোনামঃ