নাজমুস সাকিব
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি।।
দুদিন আগেও বিয়ের উৎসবে মুখরিত ছিলো সুজন মিয়ার বাড়ি। ভাতিজার বিয়েতে বাড়ি ভর্তি ছিলো আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা। ভৈরবের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় বিয়ে থেকে কর্মস্থলে ফেরার পথে স্ত্রী এবং দুই ছেলেসহ প্রাণ হারান সুজন। উৎসবের বাড়ি জুড়ে হঠাৎ নেমে আসলো বিষাদের ছায়া।
মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নের বনাটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ছেলে, পুত্রবধূর এবং দুই নাতি হারিয়ে স্তব্ধ সুজনের মা নুরজাহান ও বাবা রইস উদ্দিন। পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন বৃদ্ধা নুরজাহান। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে পুরু এলাকায়।
সুজনের বড় ভাই রমজান মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, ঢাকার মোহাম্মদপুরে তাজমহল রোড এলাকায় স্ত্রী ফাতেমা (৩০), দুই ছেলে সজিব (১১) এবং ইসমাইল (৭) কে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন সজিব মিয়া (৩৫)। সেখানে রাস্তায় ভ্যানে ডাব বিক্রি করে সংসার চালাতেন তিনি। মোহাম্মদপুরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বড় ছেলে সজিব পঞ্চম শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে ইসমাইল দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন। বড় ভাইয়ের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে স্বপরিবারে গত বৃহস্পতিবার গ্রামের বাড়িতে আসেন সুজন। আনন্দ উৎসব শেষে কিশোরগঞ্জ শালিকার বাড়িতে এক রাত থেকে সোমবার স্ত্রী দুই ছেলে নিয়ে এগারোসিন্দুর ট্রেনে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু, নিয়তি তাদের ঢাকা পর্যন্ত পৌছতে দেয়নি। ভৈরবের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় থেমে যায় সুজনের যাত্রাপথ। তার সাথে মারা যায় স্ত্রীসহ দুই ছেলেও।
সুজনের ছোট ভাই স্বপন জানান, এগারোসিন্দুর ট্রেনে করে ঢাকায় কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন তিনিও, উঠেছিলেন সামনের বগিতে। যখন পিছনের দুটি বগি দুর্ঘটনায় পতিত হয় তখন মনে পড়ে ভাই সুজনের কথা। তিনি দ্রুত গিয়ে খোঁজ করেন ভাই, ভাবি আর ভাতিজাদের। ফায়ার সার্ভিস মরদেহ উদ্ধার করার পর সনাক্ত করেন তিনি। রাতেই মরদেহ নিয়ে আসা হয় গ্রামে। মঙ্গলবার সকালে জানাজা শেষে দাফন করা হয় পারিবারিক কবরস্থানে।
স্থানীয়রা বলছেন, নিঃশ্বেস হয়ে গেলো একটি পরিবারের চারটি তাজা প্রাণ। প্রতিটি বড় দুর্ঘটনার পর কয়েকদিন আলোচনা থাকে, তদন্ত কমিটি হয়, আবার কিছুদিন পর তা হারিয়ে যায়। যে বা যাদের অবহেলায় এতো বড় দুর্ঘটনা, তাদেরকে শাস্তির আওয়াত এনে অন্তত একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হোক। যেনো এমন ঘটনা আর না ঘটে।
উল্লেখ্য, সোমবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেশনের আউটার পয়েন্টে ক্রসিংয়ে চট্রগ্রামগামী মালবাহী ট্রেন ঢাকাগামী আন্তঃনগর এগারসিন্দুর এক্সপ্রেস ট্রেনের শেষ দুই বগিতে ধাক্কা দেয়। এ সময় যাত্রীবাহী ট্রেনের কয়েকটি বগি উল্টে যায়। এ ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ময়মনসিংহের নান্দাইলের একই পরিবারের চারজন নিহত হয়।





















