আজ ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ও ৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ১০ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

২৮ জন শিক্ষার্থীর ৫ জন শিক্ষক; তবুও স্কুল চলে না ঠিকমতো

  • In শিক্ষা, সারাবাংলা
  • পোস্ট টাইমঃ ১ অক্টোবর ২০২৩ @ ০৩:৪৪ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ১ অক্টোবর ২০২৩@০৩:৪৪ অপরাহ্ণ
২৮ জন শিক্ষার্থীর ৫ জন শিক্ষক; তবুও স্কুল চলে না  ঠিকমতো

রিকোর্স চাকমা
রাঙামাটি প্রতিনিধি।।

রাঙামাটির সদর উপজেলার ৬ নং বালুখালী ইউনিয়নের সাপমারা পাহাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কাপ্তাই লেকের এক দ্বীপে বিদ্যালয়টি ১৯৯১ সালে স্থাপিত হয়েছে। বিদ্যালয়ে ২৮ জন শিক্ষার্থী ও ৫ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি অনিয়ম হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও কমে যাচ্ছে। যার কারণে বিদ্যালয়ে প্রায় সময় তালা দেওয়া থাকে। এছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মোতালেবের বিরুদ্ধে স্কুল ফাঁকি দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের বর্তমান কর্মরত ৫ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী সহকারি শিক্ষক হিসেবে রয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়টি বন্ধ এবং প্রতিটি শ্রেনি কক্ষের দরজায় তালা ঝুলানো। স্কুলের আঙ্গিনার আশে পাশে ঝোপঝাড় জমে গেছে।

স্থানীয় মোহাম্মদ রুস্তম বলেন, আমার দেখি একটা প্রাইমারি স্কুল সচরাচর ১০ থেকে ৪টা পর্যন্ত চলে। কিন্তু এই স্কুলে কোন নিদিষ্ট সময় নাই।মাস্টার দুই তিন জন মাঝে মাঝে যখন ইচ্ছে আছে আসার মন চাইলে চলে যায়। কোন সময় পতাকা উত্তোলন হয় কোন সময় হয় না। এই বিষয়গুলো নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন হয়রানির মামলা দেয়। তিনি গত কয়েক দিন আগে আমার বিরুদ্ধে চুরির মামলা দিয়ে ১৩ দিন জেল খাতিয়েছেন। স্কুলে প্রধান শিক্ষক আবদুল মোতালেব ও তার স্ত্রী সহকারি শিক্ষক রমজান খাতুন
তারা দুই জনে একই স্কুলে চাকরি করে। কিন্তু তারা ঠিকমতো স্কুল করে না। তারা শুধু হাজিরা দিয়ে চলে যায়। স্কুলের পড়ালেখার মান অত্যন্ত খারাপ।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক মনির হোসেন বলেন, আমরা চাই স্কুলটি সুন্দরভাবে চলুক। আমাদের ছেলেমেয়েরা ঠিকমতে পড়ালেখা করুক। এই মাস্টারদের অন্যত্র বদলি করে নতুন কিছু মাস্টার নিয়োগ দেওয়া হোক। স্কুলে কোন ভাবে পড়ালেখা করায় না। মাস্টাররা স্কুলে আসে ১১ টার দিকে চলে যায় ১২ টা /১ টা দিকে।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য কামাল হোসেন বলেন, স্কুলটি এক সময় ভালো ছিলো। কিন্তু বছর দুয়েক থেকে খুবই খারাপ চলতেছে। আমি স্কুলে কয়েকবার গিয়ে দেখেছি হেড মাস্টার টেবিলের উপর ঘুমায় আর উনার স্ত্রী সহকারি শিক্ষক মোবাইল চিপে চিপে থাকে ক্লাস করে না ঠিক মতো।

সাপমারা পাহাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য লোকমান হোসেন বলেন, কিছু বলতে গেলে তো প্রধান শিক্ষক লোকজনদের মারতে আসেন। তাই ভয়ে ডরে কেউ সহজে মুখ খুলতে চায় না। তবে এলাকার লোকজন ও অভিভাবকেরা অনেকেই প্রধান শিক্ষকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাকে অন্যত্র সরিয়ে নিলে ভাল হবে।

এ বিষয়ে সাপমারা পাহাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মোতালেবের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি এই বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোনটি কেটে দেয়।

রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমিও শুনেছি। তার বিরুদ্ধে শিগগরই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

শিরোনামঃ