আজ ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ও ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

শরীয়তপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে নারীর অবস্থান

  • In সারাবাংলা
  • পোস্ট টাইমঃ ১ অক্টোবর ২০২৩ @ ০১:৩৯ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ১ অক্টোবর ২০২৩@০১:৩৯ অপরাহ্ণ
শরীয়তপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে নারীর অবস্থান

নয়ন দাস
শরীয়তপুর প্রতিনিধি।।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবী নিয়ে দেলোয়ার ঢালী (৩১) নামের এক প্লাস্টিক কারখানার মালিকের বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অবস্থান নিয়েছে এক নারী শ্রমিক।

গত বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের ঝাঁউচর এলাকার দেলোয়ার ঢালীর বাড়িতে অবস্থান নেন তিনি। বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে আজ (১অক্টোবর) রোববার জানাজানি হয়।

চিতলিয়া ঝাঁউচর গ্রামের আলী আহম্মেদন ঢালীর বড় ছেলে দেলোয়ার ঢালী। সে‌ ঢাকা শহরের ইসলামবাগ এলাকায় একটি প্লাস্টিকের কারখানা রয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই নারী জানায়, তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায় একটি গ্রামে। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি কাজের সন্ধানে ঢাকা শহরের ইসলামবাগ এলাকায় আসলে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে দেলোয়ার ঢালীর প্লাস্টিকের কারখানায় নারী শ্রমিকের কাজ নেন। কাজ করার এক পর্যায়ে মালিক দেলোয়ার ঢালীর সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে দুজনের সম্মতিতে ঢাকার একটি কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের পরে তারা ওই এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সাত মাস বসবাস করেন। এর কিছুদিন পরে ওই নারী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তার বাবার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায় পাঠিয়ে দেন দেলোয়ার। এদিকে দেলোয়ার তার সাথে নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রেখে হাত খরচের টাকা পাঠালেও আর ঢাকা ফিরিয়ে আনেননি। সম্প্রতি ওই নারী জানতে পারেন দেলোয়ার ঢালী অন্যত্র বিয়ের জন্য পাত্রী দেখছেন পরে তিনি দেলোয়ার ঢালীর সাথে যোগাযোগ করলে তাকে এড়িয়ে চলা শুরু করে দেলোয়ার৷ পরবর্তীতে উপায় না দেখে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবী নিয়ে গত বুধবার দেলোয়ার ঢালীর গ্রামের বাড়িতে এসে অবস্থান নেন তিনি।

ওই নারী বলেন, দেলোয়ার আমাকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে তার বাবা মাকে আমাদের বাড়িতে পাঠানোর কথা বলেছিলো। কিন্তু ২ বছর হয়ে গেলেও সে তার বাবা মাকে পাঠায়নি। কিছুদিন আগে জানতে পারি দেলোয়ার বিয়ের জন্য পাত্রী দেখছে, আমি দেলোয়ারকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করার পর থেকেই আমাকে এড়িয়ে চলা শুরু করে সে। পরে আমি বাধ্য হয়ে ওর বাড়িতে চলে আসি। এখন আমাদের এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হয়ে গিয়েছে আমি আর বাড়ি ফিরবো না। বাঁচলে এখানেই বাঁচবো না হলে আমি এখানেই আত্মহত্যা করবো।

এ বিষয়টি জানার জন্য দেলোয়ার ঢালীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ব্যবহৃত ২টি নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

দেলোয়ার ঢালীর মা কুসুম বেগম বলেন, আমার ছেলে মেয়েটিকে বিয়ে করেছে কিনা আমরা জানিনা। হঠাৎ করে এই মেয়ে আমাদের বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছে। আমার ছেলে যদি তাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নেয় আমরা ও মেনে নিবো।

এ বিষয়ে ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নান্নু মাল বলেন, ময়মনসিংহ থেকে একটি মেয়ে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবী নিয়ে আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা দেলোয়ার ঢালীর বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছে বলে বিষয়টি শুনেছি।

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

শিরোনামঃ