কাজী ইমরান
নড়াইল প্রতিনিধি।।
নড়াইলের লোহাগড়ায় (অবঃ) ব্যাংক কর্মকর্তা হাই শেখের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরদখল করে রেখেছেন নিজের আপন ভাই মুনসুর শেখ।
ওই ব্যাংক কর্মকর্তা চাকরি থেকে অবসরগ্রহণ করে নিজের পৈত্রিক ভিটায় ঘর নির্মাণ করে বসবাস করার ইচ্ছে থাকলেও আপন ভাই জোরপূর্বক তার অংশ জোরদখল করে রেখেছেন। পৈত্রিক ভিটা ফিরে পেতে তিনি প্রশাসন, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
জানাগেছে, লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের শুলটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ শেখের ছেলে আব্দুল হাই শেখ খুলনায় জনতা ব্যাংকে চাকুরী করতেন। চাকুরী জনিত কারনে তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে খুলনায় বসবাস করতেন। সম্প্রতি চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করে পৈত্রিক ভিটায় ফিরে আসেন। কিন্তু পৈত্রিক ভিটা নিজের আপন ভাই মুনসুর শেখ পুরো বাড়ি জোরদখল করে রেখেছেন। যার কারনে তিনি নিজের পৈএিক বাড়িতে উঠতে পারছেন না। ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাসের স্বপ্ন যেন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
আব্দুল হাই জানান, তারা আপন ৭ ভাই। শুলটিয়া মৌজায় ৪টি দাগে ৯৫ শতাংক জমি এবং অপর দু’টি দাগে আরো ১৯ শতক সর্বমোট ১১৪ শতাংশ জমি রয়েছে। ওয়ারেশ অনুযায়ী আব্দুল হাই শেখ ১৬.২৮ শতাংশ জমির মালিক রয়েছে। এর মধ্যে বাস্তবাড়ীর সম্পত্তির পাবেন ১৩.৫৭ শতাংশ।
আব্দুল হাই অভিযোগ করেন, চাকুরীর সুবাদে পরিবার নিয়ে খুলনায় বসবাস করার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তার আপন ভাই মুনসুর শেখ অবৈধভাবে তার ভাগের অংশ জোরদখল করে রেখেছে। সম্প্রতি তিনি বাড়িতে এসে তাঁর প্রাপ্য জমি বুঝে নিয়ে বাড়িঘর নির্মাণ করার কথা বললে ভাইয়ের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বসতভিটার জমির পরিবর্তে তুলনামূলকভাবে অনেক কম মুল্যের ফসলি জমি নেয়ার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু আব্দুল হাই নিতে রাজি না হওয়ায় ভাইয়ের সাথে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এদিকে মুনসুর শেখের দুই ছেলে পুলিশের চাকুরী করায় আঃ হাইকে জীবননাশের হুমকী দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে এ বিষয়ে আব্দুল হাই শেখ প্রতিকার চেয়ে নড়াইল পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টি পুলিশ সুপার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন। বিষয়টি লোহাগড়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মোঃ বাচ্চু শেখ তদন্ত করে পুলিশ সুপার বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই বাচ্চু শেখ বলেন, বিষয়টি তদন্তভার দেওয়ার পর লোহাগড়া থানার আরেকজন এসআই মিজানুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হয়। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। আব্দুল হাইয়ের পিতার নাম মৃত আব্দুস সামাদ শেখ। আব্দুস সামাদের ৭ ছেলে। শুলটিয়া মৌজায় আব্দুস সামাদের নামে ৪টি দাগে ৯৫ শতাংশ ও অপর দুটি দাগে আরো ১৯ শতক সর্বমোট ১১৪ শতাংশ জমি রয়েছে। ওয়ারেশ অনুযায়ী আব্দুল হাই শেখ ১৬.২৮ শতাংশ জমির মালিক রয়েছে। এর মধ্যে বাস্তবাড়ীর সম্পত্তির পাবেন ১৩.৫৭ শতাংশ। বর্তমানে এই জমি আব্দুল হাইয়ের ভাই মুনসুর শেখ দখল করে রেখেছে। আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বরসহ বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে এবং আব্দুল হাইয়ের ভাই এবং কাগজপত্র দেখেশুনে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। পরবর্তীতে গত ০১/০৮/২০২৩ তারিখে তদন্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করে পুলিশ সুপারের নিকট জমা দিয়েছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মুনসুর শেখ মুঠোফোনে বলেন, পৈত্রিক জমিতে আমি বাড়ি করেছি। আব্দুল হাইকে অন্য জায়গা থেকে তার প্রাপ্য জমি দিতে চেয়েছি। কিন্তু সে রাজি না হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিচ্ছে। থানাতেও অভিযোগ দিয়েছে। যেহেতু জমিজমার বিষয়, আদালতের মাধ্যমে যদি সে পায়, তখন এব্যাপারে দেখা যাবে। তিনি আরো বলেন ‘আব্দুল হাই অন্য জায়গায় জমি কিনেছে। কেনা জমিও বাড়ি করার উপযুক্ত। আমার দুই ছেলে পুলিশে এবং আরেক ছেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরী করে।






















