আজ ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ও ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ২৭শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

কুমিল্লায় মার খেয়ে পালাতে গিয়ে ছয় তলা থেকে পড়ে হাত ভাঙলো মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর

  • In সারাবাংলা
  • পোস্ট টাইমঃ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ @ ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩@১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
কুমিল্লায় মার খেয়ে পালাতে গিয়ে ছয় তলা থেকে পড়ে হাত ভাঙলো মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর
ছবি- বিডিহেডলাইন্স

।।কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

কুমিল্লায় মাদ্রসা ভবনের ৬ তলা থেকে রসি বেয়ে পালাতে যেয়ে ফসকে পড়ে ২ হাত ভাঙলো মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর। আহত সজিব (১১) নুরানী শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের বাগুর গ্রামের আল মানার ইসলামিয়া মাদ্রাসায়।

আহত শিক্ষার্থী সজিব আহমেদ ইব্রাহীম মুরাদনগর উপজেলার উড়িষ্যা গ্রামের সিসিলিয়া প্রবাসী আবউল কাদেরের পুত্র।

মো. সজিব আহমেদ ইব্রাহীম জানায়, শুক্রবার মাগরিবের নামাজের আগে আমার চাচা মকবুল হোসেন খাবার নিয়ে মাদ্রাসার নিচে আসেন। এ সময় শ্রেণী কক্ষের ওস্তাদ মাওলানা মো. জাহিদুল ইসলামের নিকট তার চাচার সাথে দেখা করতে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তিনি নিষেধ করেন। পরে অপর এক সহপাঠি এসে চাচার সাথে দেখা করতে যেতে বলায় আমি হুজুরকে না বলে চাচার সাথে দেখা করতে নিচ তলায় যাই। ফিরে আসার পর হুজুর আমাকে ডেকে নিয়ে কসটেপ পেচানো বেতের মাথা আগুণে পুড়ে ওই বেত দিয়ে বেধরক পিটিয়ে আমার শরীর ও হাতের আঙ্গুল ফাটিয়ে ও ২ হাত ভেঙ্গে দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মোহতামিমি মাওলানা মো. মনিরুজ্জামান জানান, শিক্ষার্থী সজিব মারাত্মক আহত হওয়ার বিষয়টি শুনেছি। আমাদের মাদ্রাসায় মাগরিবের নামাজের পরপরই ক্লাশ শুরু হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটলেও রাত ১০টার পর সে পালিয়ে যায়।

শ্রেণী কক্ষের ওস্তাদ হাফেজ মো. জাহেদুল আলমকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় শুক্রবার ক্লাশে এক ঘন্টা বিলম্বে আসায় তাকে একটি বেতের পিটা দিয়ে শাসন করেছি মাত্র। কিন্তু মারাত্মক আহত করার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দেখা যায় । সজিব এর আগেও একাধিকবার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, যা তার পরিবার জানেন।

তিনি আরো জানান, সন্ধ্যায় টেকনেশিয়ান নিয়ে এনে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সজিব আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় নিচে কনফেকশনারীর ফোম বিছিয়ে সজিব তার বরাবর ৬ তলা ছাদের উপরে কাপড় কেটে রসি বানিয়ে নামার চেষ্টা করছে। এক পর্যায়ে রসিতে ছেছড়ে তার হাতের আঙ্গুলগুলো ছিলে যায় এবং রসি ছিড়ে পড়ে দুই হাতের হাড় ফেটে যায়।

আহত শিশুর মা’ শরিফা আক্তার জানান, আমার ছেলে শুক্রবার রাত ১০টায় মাদ্রাসা থেকে বেড়িয়ে আহত অবস্থায় চান্দিনা উপজেলা সদরে অবস্থান নেয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ফোনে জানিয়েছে আমার ছেলে পালিয়েছে। সকালে আমার ছেলে ফোনে মারধরের ঘটনা জানায়, সকালে চান্দিনা সদর থেকে এক দম্পতি আমাদের খবর দিয়ে আমার ছেলেকে মারাত্মক আহত অবস্থায় আমার ছেলেকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

এ ব্যপারে রাত সাড়ে ৭টায় দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, ভিক্টিম এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের স্বাক্ষ এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

শিরোনামঃ