আজ ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ থেকে পাকশী পর্যন্ত বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

  • In অনুসন্ধান
  • পোস্ট টাইমঃ ৩০ মার্চ ২০২৩ @ ০৪:১৩ পূর্বাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ৩০ মার্চ ২০২৩@০৫:১১ পূর্বাহ্ণ
পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ থেকে পাকশী পর্যন্ত বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ
ছবিঃ ইন্টারনেট

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে পাবনার পাকশী পর্যন্ত পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এসব এলাকার বালুমহালকে দেয়া ইজারা বাতিল করারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

জনস্বার্থে করা এ সংক্রান্ত এক রিটে সম্পূরক আবেদনের শুনানির পর বুধবার (২৯ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন আইনজীবী। তারা হলেন, অ্যাডভোকেট ফরিদ হাসান মাহাদী, অ্যাডভোকেট মো. রাশেদুজ্জামান রানা, অ্যাডভোকেট মো. ওয়াহিদুজ্জামান, অ্যাডভোকেট মুরাদ মিয়া ও অ্যাডভোকেট কাজী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট হাবিব-উন-নবী ও অ্যাডভোকেট মো. আশিকুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারী ও ঝুঁকিপূর্ণ মালামাল পরিবহন নিরাপদ করতে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে পাবনার পাকশী পর্যন্ত পদ্মার বিভিন্ন অংশে বাংলা ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিত ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না এবং বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন ও বালুমহালের ইজারা বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

ভূমিসচিব, নৌপরিবহন সচিব, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিটিএ) চেয়ারম্যান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া ও পাবনার জেলা প্রশাসককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

আইনজীবী হাবিব-উন-নবী সময় সংবাদকে বলেন, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে গোয়লন্দ থেকে পাকশী পর্যন্ত এলাকার সব বালুমহালকে দেয়া ইজারা বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে বাংলা ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিত ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রিটকারী আইনজীবী ফরিদ হাসান মাহাদী সময় সংবাদকে বলেন, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে পাবনার পাকশী পর্যন্ত পদ্মার যে নৌপথ রয়েছে, এই নৌপথ দিয়েই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহন করা হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ভারী ঝুঁকিপূর্ণ এই পরিবহন নির্বিঘ্ন করতে সরকার বিআইডব্লিউটিএর অধীনে এ নৌপথের নাব্যতা উন্নয়নের প্রকল্প নেয়। ৯৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে পদ্মার ১৫টি অংশে খননকাজ চলছে।

তিনি বলেন, গোয়ালন্দ থেকে পাকশী পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন অংশে বাংলা ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে শত শত একর কৃষিজমি ও বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে এ নৌপথ আবার ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভারী মালামাল পরিবহন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে চরম হুমকির মুখে রয়েছে রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধটিও।

আইনজীবী ফরিদ হাসান মাহাদী আরও বলেন, এসব বিষয় নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। যে কারণে আমরা জনস্বার্থে সেসব প্রতিবেদন সংযুক্ত করে গত বছরের ১৪ জুন ভূমিসচিব, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া ও পাবনার জেলা প্রশাসকের দফতরে আইনি নোটিশ পাঠাই। তাতে কাজ না হওয়ায় আমরা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করি। সে রিটের প্রাথমিক শুনানির পর আদালত রুল জারি করেন। সে রুলটি বিচারাধীন রেখে সম্প্রতি সম্পূরক আবেদন করি।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights