।।ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক।।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে উত্তর কোরিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির নেতা কিম জং উন। পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার দুই নেতার মধ্যে সাক্ষাতের সময় এই আমন্ত্রণ জানানো হয়। পুতিনকে কিম বলেছেন, তাদের বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন একটি মাত্রায় নিয়ে গেছে। এছাড়া আরও শতবছর স্থিতিশীল, ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন কিম।
কেসিএনএর খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়ার রকেট গবেষণাকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় রুশ মহাকাশযানগুলোর কারিগরি বিষয়গুলো সম্পর্কে কিম জং উনকে অভিহিত করা হয়। তবে ওই খবরে অস্ত্র সরবরাহ, অস্ত্র বাণিজ্য কিংবা অস্ত্র কর্মসূচিতে কারিগরি সহায়তার কোনো কিছুই উল্লেখ নেই।
জাপানের কিয়োদো বার্তা সংস্থা সূত্রের বরাতে বলেছে, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর কিম জং উনের একটি কারখানা পরিদর্শনের কথা ছিল। ওই কারখানায় সুখোই যুদ্ধবিমান এবং অন্য আকাশযান তৈরি করা হয়।
এই সফর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তাদের আশঙ্কা কিম রাশিয়াকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করতে পারে। ইউক্রেনে ১৮ মাস ধরে আগ্রাসন চালাতে গিয়ে বিপুল গোলা শেষ হয়েছে মস্কোর। তবে রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়া উভয়ই এমন উদ্দেশ্য থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
বুধবার পুতিন বেশ কিছু সামরিক সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে ইঙ্গিত দেন। তবে এনিয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি তিনি। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই সোইঘু। ক্রেমলিন বলেছে, প্রতিবেশিদের মধ্যে স্পর্শকাতর আলোচনা গোপনীয় বিষয়।
বুধবার রাশিয়ার দুর্গম আমুর অঞ্চলে ভস্টোচনি রকেট গবেষণাকেন্দ্রে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান কিম জং উন। পশ্চিমের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ‘পবিত্র যুদ্ধে’ পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেন কিম। এর বিনিময়ে উত্তর কোরিয়ার স্যাটেলাইট কর্মসূচিতে সহায়তার প্রস্তাব দেন পুতিন।
দুই নেতা একান্তে কথা বলার পাশাপাশি প্রতিনিধিদের নিয়েও বৈঠক করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা চলে এই আলাপচারিতা। বৈঠকের পর কিমের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন পুতিন। মহাকাশে উত্তর কোরিয়ার অভিযাত্রী পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করেন বলে জানিয়েছেন ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ।





















