আজ ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ও ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

খুনিদের ভয়ে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে আমার অসহায়ত্ব ক্রমশঃ ভয়াবহ হয়ে উঠে

  • In গণমাধ্যম
  • পোস্ট টাইমঃ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ @ ১০:০২ পূর্বাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩@১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
খুনিদের ভয়ে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে আমার অসহায়ত্ব ক্রমশঃ ভয়াবহ হয়ে উঠে

শাহীন মাহমুদ রাসেল
কক্সবাজার প্রতিনিধি।।

একটি বাড়িতে আমি একা একজন মানুষ খুনিদের ভয়ে থাকতে পারছিনা। আজকে একজনের বাড়ি, কালকে আরেকজনের বাড়িতে থাকতে থাকতে আমার জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। একদিকে মায়ের লাশ অন্যদিকে মারাত্মক আহত বোনের চিৎকার আমি আর সহ্য করতে পারছিনা। সন্ধ্যা হলে সকল মানুষ আপন আপন ঠিকানায় ফিরে। কিন্তু সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে আমার অসহায়ত্ব ক্রমশঃ ভয়াবহ হয়ে উঠে। এইভাবেই কথাগুলো বলছিলেন কক্সবাজারের উখিয়া পশ্চিম পালংখালী এলাকার রাহমিনা মমতাজ প্রিয়া নামের এক নারী।

মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী প্রিয়া পশ্চিম পালংখালীতে ইউসুফ বাহিনীর হাতে নির্মম ভাবে খুন হওয়া লুলু আল মরজানের কন্যা।

জীবনের নিরাপত্তা ও মায়ের হত্যার ন্যায় বিচার দাবী করে প্রিয়া বলেন, এবছরের ৪ মে আমার মাকে নৃশংসভাবে খুন করে খুনি ইউসুফ, শামীম, সেলিম এবং তাদের পিতা জাহাঙ্গীর। সেসময় আমার বড় বোন এস.এস.সি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তার আঘাত গুরুতর হওয়ায় এখনো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে তিনি। এর আগে ১৯৯৯ সালের ১৮ নভেম্বর একইভাবে হত্যা করে ইউসুফের পিতা, চাচা, ফুফু, এবং ফুফা মিলে আমার নানাকেও।

তিনি আরও বলেন, আমার মায়ের খুনের ঘটনার পর গনমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ হলে পুলিশ প্রশাসন খুনি জাহাঙ্গীর এবং সেলিমকে গ্রেফতার করে। কিন্তু মামলার তদন্ত কার্যক্রমে ধীরগতি এবং প্রধান আসামী ইউছুপসহ অন্যান্য আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় খুনির পরিবার প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকিতে আমি এবং আমার মেজবোন বাড়িতে থাকতে পারছিনা। তারা আমার মামা- খালা এবং খালাত ভাই বোনদের বিভিন্ন নানান অজুহাতে হয়রানি করে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মাধ্যমে পুনরায় হত্যার হুমকি দিচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে বলেন, এদিকে যতই দিন অতিবাহিত হচ্ছে মামলা ততই পুরনো হচ্ছে। প্রশাসন ও সমাজ কর্মীরা ধীরে ধীরে খুনিদের পক্ষ নিচ্ছে বলে মনে করছি আমি। আমার মায়ের খুনির অন্যতম সহযোগীরাও প্রকাশ্য ঘুরাফেরা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরোও বলেন, যে জায়গার কারনে আমার মাকে হত্যা করা হয়েছে সে জায়গায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা ছিল। আর সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বর্তমানে তারা বসবাস করছে। আমি সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং পুলিশ প্রশাসনকে ফোনে জানালে কেউ বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেনা। রাষ্ট্রের কারো কাছ থেকে আমি কোনো প্রকার নুন্যতম সহযোগীতা পাচ্ছিনা। এই মুহুর্তে কাউকে পাচ্ছিনা।

প্রিয়া প্রশাসনের সাহায্য চেয়ে বলেন, এতবড় পৃথিবীতে আমার এক টুকরো নিরাপদ জায়গা নাই। আমি আমার মায়ের খুনি ও সহযোগীদের গ্রেফতার ও সুষ্ঠু বিচার চাই। আমি এই পৃথিবীতে সুষ্টু ও নিরাপদভাবে বাঁচতে চাই। আমার মায়ের আত্মার শান্তি কামনায় আপনাদের দোয়া চাই।

উল্লেখ্য, খুনি ইউসুফ অর্ধ ডজন ডাকাতি মামলা, অস্ত্র মামলা, প্রশাসনের অস্ত্র ছিনতায় মামলা এবং রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবি হোছন গ্রুফের সক্রিয় সদস্য।

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

শিরোনামঃ