শাহীন মাহমুদ রাসেল
কক্সবাজার প্রতিনিধি।।
প্রথমে মোবাইলে পরিচয়। সেই পরিচয় থেকে প্রতিদিন একটু একটু করে কথা বলে ফেলা হয় প্রেমের ফাঁদে। প্রেমের ফাঁদ থেকে কথা দেওয়া হয় বিয়ের। সে দেশে আসতেই বিয়ে করবে বলে তার কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
প্রতিশ্রুতি দেন, তাদের প্রেমের সম্পর্ক যদি পরিবার মেনে না নেয়, তার হাত ধরে পালিয়ে বিয়ে করে সংসার পাতবেন। সরল মনে বিয়ের কথা চিন্তা করে মেয়েটির কাছে টাকা পাঠান এক প্রবাসী। এভাবেই প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ছয় বছরের সম্পর্ক করে অন্তত চার লাখ টাকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী নয়াপাড়া এলাকার তসলিমা আক্তার (২১) বিরুদ্ধে। তিনি স্থানীয় আব্দুর রহিমের মেয়ে। তসলিমা উখিয়া কলেজের একাদশ শ্রেণীতে অধ্যায়নরত রয়েছেন। এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভিত্তিক একটি এনজিওতে চাকরি করছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী মালেশিয়া প্রবাসী যুবকের দাবি, তার ভাবির মাধ্যমে মোবাইল নম্বরে পরিচয় হয় তসলিমা আক্তারের৷ এর সুত্র ধরে পরিবারের সকল সদস্যের সাথে আন্তরিকতা তৈরি হয় ওই যুবকের৷ এরই মধ্যে মেয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতে থাকেন ওই প্রবাসীর সাথে। কিছুদিনের মধ্যেই বিয়ের প্রস্তাব দেয় প্রবাসীকে৷ প্রবাসী সরল মনে রাজি হওয়ার পর থেকে তসলিমা প্রবাসীকে নানাভাবে ম্যানেজ করে তার জন্য টাকার কথা বলে৷ প্রবাসী বিয়ে করবে এই সরল চিন্তা থেকে বিকাশে দফায় দফায় প্রায় ৪ লক্ষ টাকা পাঠায় তসলিমার জন্য৷ এর বাইরেও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মাসে মাসে টাকা নিত ওই প্রবাসীর কাছ থেকে৷ একটা সময় পর্যন্ত সবই ঠিকঠাক চলছিল কিন্তু বিপত্তি বাধে মালেশিয়ায় প্রবাসী হঠাৎ করে অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়লে৷ ওই সময় দেশে চলে আসতে চাইলে এরপর থেকেই তাকে পরিবার অন্যত্র বিয়ের জন্য চাপ দেয়ার কথা বলে প্রবাসীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। মানুষিক এবং অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে ওই প্রবাসী ভালবাসার মানুষকে ফেরত পাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করতে থাকে৷
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে তসলিমার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি প্রতিবেদকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করে ব্যস্ততার অজুহাতে ফোনের সংযোগটি বিছিন্ন করে দেন। পরে একাধিক সময় তার সাথে যোহাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন আর রিসিভ করেন নি।
প্রবাসী যুবক বলেন, তসলিমার বাবা টট্টগ্রামের লোহাগাড়ার একটি মাদ্রাসায় পড়ালেখা করার সুযোগে তার মাকে সেখানে বিয়ে করে দীর্ঘদিন সংসার করার পর ২০১৫ সালের দিকে স্বপরিবারে বালুখালীতে চলে আসেন। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা ঢল আসার পর থেকে তসলিম ক্যাম্পে চাকরি করেন। সেখানে আমার এক ভাবীও চাকরি করার সুবাধে তার সাথে আমার মোবাইলে যোগাযোগ হয়। এরপর দু’জনেই সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে দেশে ফিরে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিই।
যেকোন কঠিন সময়ে একজন আরেকজনকে ছেড়ে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিলো। তসলিমা আমাকে কথা দিয়েছিলো; তার বাড়িতে আমাদের সম্পর্কটি মেনে না নিলেও যেভাবে পারে তার পরিবারকে রাজি করাবে। প্রয়োজনে পালিয়ে সাংসার পাতবেন। এই বছরের শেষের দিকে তাকে বিয়ে করার জন্য দেশে আসবো এমন সিদ্ধান্তের কথা তাকে জানানোর পর থেকে তার পরিবার আমাকে মেনে নিচ্ছেনা দাবি করে আমার সাথে যাবতীয় যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। হঠাৎ একদিন দেখি তার ফোনে কল যায় না; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আমাকে ব্লক করেছে। তখন আর আমার বুঝতে বাকি নেই সে আমার সাথে প্রতারণা করেছে। তার উদ্দেশ্য ছিলো আমার সাথে প্রমের অভিনয় করে টাকা হাতিয়ে নেয়া। মেয়েটির পেছনে আমার অনেক টাকা খরচ করে বর্তমানে নিঃস্ব হয়ে গেছি।
এদিকে প্রতিবেদকের হাতে আসা বেশ কিছু স্কীনর্শটে দেখা যায়, অন্তরঙ্গ মুহূর্তে তারা ভিড়িও কলে একে অপরের সাথে কথা বলছেন। এবং একে অপরের সাথে ভালবাসার কথাবর্তা লিখে এসএমএস করছেন।
ভুক্তভোগী প্রবাসী বলেন, কাউকে ঠকিয়ে নিজে লাভবান হওয়ার নামই প্রতারণা। বাংলাদেশে পথে-ঘাটে প্রকাশ্য দিবালোকে চলে এ প্রতারণা। দেশ ডিজিটাল হওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে অনলাইন প্রতারণা। প্রতারকরা মানুষকে ঠকাতে নতুন নতুন ফন্দি ফিকির আটছে।
সচেতন মহলের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুত্বে উপকারিতার পাশাপাশি রয়েছে হাজারও অপকারিতা। যাকে কখনো দেখেননি সেও হঠাৎ কাছের বন্ধু বনে যায়। একটা সময় আপনার গোপন কথাও জেনে যায় সে। অনেক সময় ওই বন্ধুই আপনাকে মানসিকভাবে বিপদে ফেলতে পারে। ছবি কিংবা ভিডিওর মাধ্যমেও আপনাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতে পারে। অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা থেকে শুরু করে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক কিছুই করতে পারে সেই অদেখা বন্ধুটি। অনলাইনে একটি অসচেতনতাই আমাদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।###






















