মো. লিটন হোসেন লিমন
নাটোর প্রতিনিধি।।
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় ধর্ষণের শিকার ১১ বছরের শিশু এখন কন্যা সন্তানের মা হয়েছে। মা ও কন্যা শিশুকে একনজর দেখতে হাসপাতালে
উৎসুক জনতা ভিড় করছেন।
শনিবার (২ সেপ্টম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা স্ব্যাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারের মাধ্যমে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেয় ওই শিশু।
ওই স্কুল ছাত্রীর দাদী হালিমা খাতুন জানান, আমি গরিব মানুষ অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনো মতে সংসার চালাই। প্রয়াত স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস কিছুদন আগে ২০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। তা দিয়ে তার খরচ করেছি। এখন শিশু সন্তানসহ তার মাকে নিয়ে কি ভাবে চলবো এ চিন্তায় আছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি ডাঃ নারগিস তানজিমা জানান, ওই স্কুল ছাত্রীর মা হবার বয়স নয়। সে নিজেও একজন শিশু। মা ও নবজাতককে নিয়ে আমরা অনেক চিন্তিত ছিলাম।কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মিলে সিজারের সিদ্ধান্ত নেই। পরে এক কন্যা সন্তান জন্ম হয়। বর্তমানে মা ও নবজাতক সুস্থ্য রয়েছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্রাবণী রায় বলেন,গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারের মাধ্যমে ওই শিশু কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুসহ তার মাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
উল্লেখ্য, পারিবারিক কলহের কারণে শিশুটির বাবা ও মা অন্যত্রে বিয়ে করে। এরপর থেকে শিশুটি তার চাচা-চাচির কাছে থাকতো। এলাকার এক দুসম্পর্কের দাদা অভিযুক্ত আসামি জাহিদুল খাঁ মাঝে মধ্য শিশুটিকে নিয়ে তার ভ্যানে বেড়াতে যেত। পরে ৭ মাস পর শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের মানুষ জিজ্ঞেস করলে কোনো উত্তর দেয়নি শিশুটি। তবে প্রসব পরীক্ষার পর প্রাথমিকভাবে গর্ভে সন্তান থাকার কথা জানতে পারে পরিবার। পরবর্তীতে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার মাধ্যমে চিকিৎসক অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি জানান। পরে শিশুটি এ ঘটনা তার পরিবারকে বলে। পরে গত ১৮ জুন শিশুটির দাদি বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে গত শুক্রবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থান হেলেঞ্চা এলাকা থেকে ধর্ষণের অভিযুক্ত আসামি জাহিদুল খাঁ (৬০)কে গ্রেফতার করে র্যাব।





















