।।বিশেষ প্রতিবেদক।।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরণের শোডাউনকে ক্ষমতা প্রদর্শনের কাজে লাগাতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আজ শুক্রবার ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগ আয়োজিত ছাত্র সমাবেশ। কাল শনিবার ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাওলা-ফার্মগেট অংশের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে সুধী সমাবেশ। এ দুই সমাবেশেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি। সমাবেশের মধ্য দিয়ে এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ শোডাউন দেখাতে চায় দলটি। এছাড়া কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেলের আগারগাঁও-মতিঝিল অংশের উদ্বোধন উপলক্ষে আরও বড় বড় শোডাউন করা হবে। মূলত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এমন নির্বাচনী শোডাউন করতে চায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।
দলীয় সূত্র বলছে, ১ সেপ্টম্বর ছাত্রসমাবেশ ও ২ সেপ্টম্বর সুধী সমাবেশের মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবেই নিয়েছে দলটি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত কোনোভাবেই রাজধানী ঢাকার মাঠের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হোক কিংবা বিএনপি কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে তাদের অবস্থান দেখতে চায় না দলটি। তাই বিএনপির কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি নয়, একের পর এক কর্মসূচির মাধ্যমে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রেখে রাজনীতির মাঠ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখেই আগামী নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে আনতে চায় ক্ষমতাসীনরা। এছাড়া পাল্টা কর্মসূচির বাইরেই দলীয় কর্মসূচির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ আলাদা আলাদা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকবে। একারণে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে ছাত্রসমাবেশ করছে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প অর্থাৎ মেগা প্রজেক্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই দুই সমাবেশে ৫ লাখ করে কমপক্ষে ১০ লাখ লোকের সমাবেশ করতে চায় দলটি। তারা চায় সমাবেশ দুটি যেন জনসমূদ্রে রূপ নেয়।
কর্মসূচি সফল করতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার নেতাদের সঙ্গে একাধিক বর্ধিত সভা করেছে আওয়ামী লীগ। এ বর্ধিত সভা করে মহাসমাবেশ সফল করতে নেতাদের কড়া বার্তা দিয়েছে দলটি। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডকে সমাবেশে এক থেকে দেড় হাজার মানুষ নিয়ে আসার টার্গেট দেওয়া হয়েছে। আর ঢাকার বড় সব শোডাউনে ঢাকা জেলা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের অর্ন্তগত থানা, ওয়ার্ডা ও ইউনিটের এখনও কমিটি হয়নি। সঙ্গত কারণে ওই বর্ধিত সভায় সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যারা সমাবেশে লোকসমাগমের টার্গেট পূরণ করবেন, তারা পুরস্কৃত হবেন। আর যারা ব্যার্থ হবেন, তাদেরকে শোকজ করা হবে। এটি শুধু ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের জন্যই নয়। ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের এলাকার জন্যও প্রযোজ্য। এছাড়া ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ও গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ আশাপাশের এলাকার নেতাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য।
এ সমাবেশে প্রতিটি জেলার জন্য আলাদা রঙের ক্যাপ বা গেঞ্জি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, ১ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব স্মরণে ছাত্র সমাবেশ সফল করতে আগেই ৭ নির্দেশনা দিয়েছিল ছাত্রলীগ। এতে সারা দেশে ছাত্রলীগের সব ইউনিটের নেতাকর্মীসহ ছাত্র, তরুণ ও যুবকদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়। দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষার্থী সমাবেশ আজকে। অন্তত পাঁচ লাখ নেতাকর্মী সারা দেশ থেকে এসে এই সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা। ছাত্রসমাবেশে উপস্থিত ইউনিটগুলোর মধ্য থেকে সেরা ইউনিটকে সাংগঠনিকভাবে পুরস্কৃত এবং কোনো ইউনিট উপযুক্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে সাংগঠনিক জবাবদিহির ব্যবস্থার নেওয়া হবে।
এরআগে ছাত্রসমাবেশ সফল করতে গত ১০ আগস্ট ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ একটি প্রস্তুতি সভা করে। পরে ১৮ আগস্ট বিশেষ বর্ধিত সভা করেছে সংগঠনটি। এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে ১২৭টি সমন্বয় টিম গঠন করা হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সর্ববৃহৎ ছাত্র সমাবেশ’-এর প্রস্তুতি ও সার্বিক বিষয় জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সারাদেশ থেকে পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এই ছাত্রসমাবেশে অংশ নেবেন। এই ছাত্রসমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনাকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় উপহার দেয়ার শপথ নেবে ছাত্রলীগ। আজ বৃহস্পতিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পরিদর্শনে যাবেন ছাত্র নেতারা। আর ২ সেপ্টেম্বর পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। এদিন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের এয়ারপোর্ট থেকে ফার্মগেট অংশ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে মঞ্চের কাজ শেষ প্রায় পর্যায়ে। পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠ ও আশাপাশের এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তার কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গত ২২ আগস্ট ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ১ সেপ্টম্বর ও ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীবাসী দেখবে মহাসমুদ্র, জনতার মহাসমুদ্র। সেই মহাসমুদ্র দেখার অপেক্ষায় আছি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ইস্পাতের মতো শক্তি নিয়ে সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গি মোকাবিলা ও প্রতিরোধ করতে প্রস্তুত।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন। এরমধ্য দিয়ে সমাবেশ জনসমূদ্রে রূপ নেবে। বিএনপি-জামায়াতকে আমরা বুঝিয়ে দেবো এদেশে আর কোনো ষড়যন্ত্র চলবে না। আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী মাঠে আছে। তারা ষড়যন্ত্র করলে বা কোনো সহিংসতা করলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার জবাব দেবে।
ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ১ সেপ্টম্বরের ছাত্রসমাবেশের মঞ্চ থেকে সব প্রস্তুতি শেষ। এই সমাবেশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, গোটা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ সমাবেশ দেশের প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি উপজেলায়, প্রতিটি ইউনিয়নে, প্রতিটি গ্রামে থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আসবেন। ছাত্রসমাবেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর বাইরেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকবেন। এই ছাত্রসমাবেশে প্রায় ৫ লাখের বেশি ছাত্ররা আসবেন। এই সমাবেশ জনসমূদ্রে রূপ নেবে। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিরোধী রাজনীতি করছে, যারা খুন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের রাজনীতি করছে তাদের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ যে ঐক্যবদ্ধ সেটি প্রমাণিত হবে।





















