এস এম শফিকুল ইসলাম
জয়পুরহাট প্রতিনিধি।।
জয়পুরহাট শহরের প্রাণকেন্দ্র পাঁচুর মোড়ের ভাঙা আলিশানের জায়গার অবৈধ দোকানপাট সরিয়ে নিতে তিন সপ্তাহ আগে তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়ে নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছিল জেলা পরিষদ। সেই নোটিশ ভাঙা আলিশানের সামনে আজ সোমবারও টাঙানো রয়েছে। নোটিশ টাঙানোর পর কেউ দোকানপাট সরিয়ে নেয়নি উল্টো সেখানে নতুন করে দোকানপাট নির্মাণ হচ্ছে। জেলা পরিষদের বেঁধে দেওয়া সেই তিন দিনের সময় যেন শেষই হচ্ছে না। ওই স্থানে জেলা পরিষদের স্বাধীনতা চত্ত্বর নির্মাণের কথা রয়েছে।
আজ সোমবার সকালে ভাঙা আলিশানে চা-পান করে ফেরার সময় টাঙানো নোটিশ চোখ আটকায় শহরের বাসিন্দা সোহেলের। তিনি নোটিশ পড়ে বলেন, এটা জেলা পরিষদের কৌশলী নোটিশ। তিন সপ্তাহ আগে থেকে নোটিশ দেখছি। তখন নোটিশ ভালোভাবে পড়ে দেখেনি।
নোটিশে অবৈধ দোকানপাট সরিয়ে নিতে তিন দিনের সময় বেঁধে দেওয়া আছে। নোটিশে কোনো তারিখ নেই। যে যেদিন পড়বে তখন থেকে তিন দিন হবে। নোটিশের তিন দিন কখনও শেষ হবে না। জেলা পরিষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছ, জয়পুরহাট শহরের প্রাণকেন্দ্র পাঁচুর মোড়ে জেলা পরিষদের জায়গায় স্থায়ী দোকানপাট গড়ে উঠিছিল। সেখানে আলিশান নামে একটি হোটেল ছিল। এ কারণে জায়গাটি ভাঙা আলিশান নামে পরিচিত।
৫-৭ বছর আগে সেই জায়গায় থাকা আলিশান হোটেলসহ দোকানপাটগুলো উচ্ছেদ করা হয়। এরপর সেখানে স্বাধীনতা চত্বর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় জেলা পরিষদ। কিন্তু ফাঁকা জায়গায়টি ফাঁকা পড়ে থাকায় সেখানে অস্থায়ী দোকানপাট নির্মাণ করা হয়। স্বাধীনতা চত্ত্বর নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করার পর সেখান থেকে দোকানপাট সরিয়ে নেওয়া হয়। স্বাধীনতা চত্ত্বর নির্মাণকাজ নানান জটিলতায় আটকে যায়।
এরপর সেখানে আবারও অস্থায়ী দোকানপাট নির্মাণ করা হয়। পাঁচুর মোড়ের ভাঙা আলিশান গিয়ে দেখা গেছে, ভেতরে সামান্য জায়গা ফাঁকা রাখা হয়েছে। এছাড়া বেশিভাগ জায়গাজুড়ে অস্থায়ী দোকানপাট করা হয়েছে। নতুন করে পূর্বদিকে একটি দোকান নির্মাণের কাজ চলছে। ভাঙা আলিশানের পাঁচবিবি সড়কের অংশে একটি পান-সিগারেটের দোকানের পাশে দেয়ালে একটি নোটিশ সাঁটানোর হয়েছে।
এছাড়া পূর্বদিকের দেয়ালে একটি নোটিশ ও প্রধান সড়কের সামনে একটি নোটিশ ঝুলানো হয়েছে। ওই তিনটি নোটিশে ‘এতদ্বারা জেলা পরিষদের পাঁচুরমোড়ে অবস্থিত অবৈধ দোকান মালিকদের সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে আগামী তিন দিনের মধ্যে সকল স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হলো অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদেশক্রমে কতৃর্পক্ষ, জেলা পরিষদ, জয়পুরহাট’ কথা লেখা রয়েছ । অস্থায়ী দোকানপাটের মালিকেরা জানান, তাঁরা গরীব মানুষ। জায়গাটি ফাঁকা পড়ে থাকায় অস্থায়ী দোকানপাট করেছেন। এখানকার আয়ে তাঁদের সংসার চলে। স্বাধীনতা চত্বর হবে বলে তাঁরা দোকানপাট সরিযে নিয়েছিলেন।
কিন্তু স্বাধীনতা চত্ত্বর নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় তাঁরা আবার দোকানপাট করেছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁরা জেনেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্বাধীনতা চত্ত্বর নির্মাণকাজ শুরু হবে না। একারণে তাঁরা কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন। হঠাৎ করে তিন সপ্তাহ আগে জেলা পরিষদের লোকজন এসে তিন দিনের সময় বেঁধে দেওয়া কয়েটি নোটিশ টাঙিয়েছে। নোটিশ টাঙানোর পর তাঁদের সরিয়ে যাওয়ার তাগাদা দেওয়া হয়নি। দোকানী মাছুম হোসেন বলেন, আমরা কয়েক বছর ধরে ভাঙা-গড়ার খেলার মধ্যে আছি। যদি আমাদের অন্য কোন স্থানে স্থায়ীভাবে বসার ব্যবস্থা করত তাহলে স্বস্তি পেতাম।
জয়পুরহাট শহরের বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম বলেন, জয়পুরহাট শহরের প্রাণকেন্দ্র পাঁচুর মোড়। এখানে স্বাধীনতা চত্ত্বর নির্মাণের কথা অনেক দিন ধরে শুনে আসছি। কিন্তু এখনও স্বাধীনতা চত্ত্বর নির্মাণ হয়নি। জয়পুরহাট জেলা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খাজা সামছুল আলম বলেন, পাঁচুরমোড়ে অবৈধ স্থাপনা অনেক আগেই উচ্ছেদ করা হয়েছে। তারপরও কিছু জায়গায় এখনও অবৈধ স্থাপনা রয়ে গেছ। আমরা সেই জায়গাগুলো বের করব। ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচুরমোড়ে স্বাধীনতা চত্ত্বর নির্মাণ করা হবে। অনেক আগেই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। জয়পুরহাট শহরের প্রধান সড়কটি ফোর লেনের কাজ চলছে। একারণে স্বাধীনতা চত্ত্বরের নির্মাণকাজ বিলম্বিত হচ্ছে। পাঁচুর মোড়ের অবস্থিত অবৈধ দোকানপাট সরিয়ে নিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।






















