।।কূটনৈতিক প্রতিবেদক।।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সুবিধার জন্য বিগত ২০২২ সালে জাপানের ‘অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিসটেন্স’ (ওএসএ) নামের নতুন সহযোগিতা কাঠামোতে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ওএসএ কাঠামোয় যোগ দিতে প্রথম চারটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচিত হয়েছে। এই কাঠামোর মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতার পাশাপাশি দেশগুলোর নিরাপত্তার প্রয়োজনের ভিত্তিতে অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা করে জাপান। প্যান এশিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পারি) আয়োজনে শনিবার ঢাকায় অবস্থিত জাপান দূতাবাসে ‘বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত সম্পর্ক বাস্তবায়ন: কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনগণ থেকে জনগণের সম্পর্ক’ শীর্ষক এক আলোচনা বৈঠকে এই তথ্য জানান হয়।
প্যান এশিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পারি) আয়োজিত আলোচনা বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, জাপানের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বাঙালি বিচারপতি রাধা বিনোদ পাল বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ভিত্তি গড়েছিলেন, যিনি জন্ম নিয়েছিলেন কুষ্টিয়ায়। বাঙালি এই বিচারপতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষিতে ট্রায়ালে যে ভূমিকা রেখেছিলেন, সেটা এখনো জাপানি মানুষদের মনে আছে। বিগত ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাপানি শিক্ষার্থীরা টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য সহায়তা পাঠিয়েছিলেন, যা স্মরণযোগ্য। বিগত ২০১৪ সালে জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ঢাকা সফর ও চলতি বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে বিশেষ গতি এনেছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে দুই দেশের সম্পর্ক কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বেড়েছে, যা প্রথম বারের মতো দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চার বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। জাপানের সহযোগিতায় ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সংযোগ বাড়ানোর কার্যক্রম চলছে।
ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি অনুষ্ঠানে বলেন, জাপানের অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স কাঠামোয় প্রথম চারটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচিত হয়েছে। এই ‘অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিসটেন্স’ হচ্ছে জাপানের নতুন একটি সহযোগিতা কাঠামো যা সশস্ত্র বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সুবিধার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যার আওতায় বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তার প্রয়োজনের ভিত্তিতে অবকাঠামো উন্নয়নে উপকরণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ সহযোগিতা করা হবে।
জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছর জাপান সফর করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ওই সফরের মধ্যে দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরো এগিয়ে যাওয়ার পথ প্রসস্ত হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা শক্তিশালি করতে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি করতে যৌথ সমীক্ষা চলছে। এই চুক্তি হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক-অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালি হবে। এরই মধ্যে জাপানি অর্থায়নে বাংলাদেশে বৃহৎ প্রকল্পগুলোর বিশেষ অগ্রগতি হয়েছে। যার মধ্যে আগামী অক্টোবরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হবে। এরই মধ্যে মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রথম ধাপ চালু হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-নারিতা বিমান যোগাযোগও চালু হয়েছে।
জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দীন আহমদের লিখিত বক্তব্য অনুষ্ঠানে পাঠ করা হয়। রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দীন আহমদ বলেন, জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু। দুই দেশের মধ্যে বহুপক্ষীয় সম্পর্ক বিদ্যমান। দুইপক্ষের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্কও শক্তিশালী হচ্ছে।





















