।।ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক।।
জুলাইয়ের শেষ দিকে বাংলাদেশে বিরোধী দলের সমর্থকদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পুলিশ নির্বিচারে রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস, জলকামান ব্যবহার ও লাঠিপেটা করেছে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার গ্রুপ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। গ্রুপটি বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছে, এগুলো দৃশ্যত রাজনৈতিক বিরোধীদের আটক ও লক্ষ্যবস্তু বানানোর পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া।
এইচআরডব্লিউ এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৯ জুলাই ঢাকায় বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিকে ঘিরে ৮০০র বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এইচআরডব্লিউ বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইমন গিলমোর ও বাংলাদেশে নির্বাচনের পরিবেশ পর্যবেক্ষণে আসা ইইউ প্রতিনিধিদলের সফরের সময়ও সংঘাতের ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর পরিচালিত বর্বরোচিত দমন অভিযানকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন গণতান্ত্রিক না হওয়ার সর্তকসংকেত হিসেবে দেখা উচিত হবে। বাংলাদেশ সরকার অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আন্তর্জাতিক মহলে অঙ্গীকার করছে। যদিও তারা স্বৈরাচারী আচরণ এবং নিন্দনীয় আক্রমণ চালিয়েছে যা স্পষ্টভাবে সরকারের অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিএনপি নেতাদের বরাত দিয়ে এইচআরডব্লিউ জানায়, বিক্ষোভে দলটির অন্তত শতাধিক সমর্থক আহত হয়েছেন। পুলিশ এবং বিরোধী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র লোকদের লাথি ও আঘাত করে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে। আর পুলিশের মতে, বিরোধী দলের বিক্ষোভকারীদের ছোড়া পাথরে এবং পুলিশের গাড়িতে হামলায় তাদের অন্তত ৩২ জন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
এইচআরডব্লিউর মতে, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের সমাবেশের স্বাধীনতার অধিকার এবং বিক্ষোভকে ছত্রভঙ্গ করতে মানবাধিকারের মানদণ্ডকে সম্মান করতে হবে। সংস্থাটি বলছে, বিক্ষোভ যাই হোক না কেন, আইনগতভাবে তা অনুমোদিত ছিল। বিক্ষোভ ঠেকাতে অহিংস উপায় বেছে নিতে পুলিশকে পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে কর্মকর্তারা জাতিসংঘের মৌলিক নীতিগুলো যেমন বলপ্রয়োগ ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করার আগে এলাকা খালি করার মতো কার্যক্রম অনুসরণ করতে পারে। জাতিসংঘের নির্দেশ মতে, বিক্ষোভে কম প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা বা জনসাধারণের একজনের ক্ষতির আসন্ন হুমকি মোকাবিলায় রাবার বুলেট শেষ অবলম্বন হিসাবে ব্যবহার করা উচিত। আর শুধু জনসাধারণের ব্যাপক ক্ষতি হবে এমন পরিস্থিতিতে জলকামানগুলো ব্যবহার করা উচিত।
মীনাক্ষী গাঙ্গুলি তার বক্তব্যে আরও বলেছেন, গণহারে ও নির্বিচারে গ্রেফতার এবং সহিংস দমন-পীড়নের মাধ্যমে বিরোধীদের অক্ষম করে বাংলাদেশের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে এমন চিন্তায় কাউকে বোকা বানাতে পারবে না সরকার।





















