নয়ন দাস
শরীয়তপুর প্রতিনিধি।।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চোরেদের উৎপাত ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারি অভাব থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, একদিকে শয্যায় সংকট থাকায় রোগীর চাপ ও চিকিৎসা বিড়ম্বনা। অন্যদিকে হাসপাতালের অধিকাংশ সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো থাকায় রোগীদের ভীড়ে হাসপাতালে ঢুকে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে চোর চক্র। এ ঘটনায় হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন তারা।
ফারিসতা নামের ১১ মাসের শিশু বাচ্চার ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে গতকাল শনিবার (২১অক্টোবর) সকালে, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে, আসেন সদর উপজেলার মধ্য সোনামুখীর গ্রামের প্রবাসী সোহাগ মোল্লার স্ত্রী, ডলি আক্তার বলেন, হাসপাতালের ওই আয়া, ঝাড়ু দিয়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই আমার পার্স ব্যাগটি গায়েব, হয়ে যায়। আমার পার্স ব্যাগের মধ্যে ২৬ হাজার টাকা একটি সোনালী ব্যাংকের এটিএম কার্ড, আমার জাতীয় পরিচয়পত্র চুরি করে হয়ে যায়। হাসপাতালের কক্ষে সিসিটিভি না থাকায় দেখতেও পারছি না কীভাবে আমার ব্যাগটি চুরি হয়েছে।
সদর উপজেলার চিতুলিয়া ইউনিয়নের কাশিপুর সর্দারকান্দি গ্রাম থেকে তাসকিন নামের ১ মাস বয়সী এক শিশুর চিকিৎসা নিতে সাথে আসা তার বাবা মোরশেদ সরদার বলেন, ৩ দিন ধরে, তাসকিনকে সদর হাসপাতালে, ভর্তি। আজ ভোর রাতে আমার পাশে থাকা ব্যাগ থেকে ৩ হাজার টাকা, তাসকিনের প্যামপাস ও ওষুধ নিয়ে যায় চোর। গ্রাম থেকে চিকিৎসা করাতে অল্পকিছু টাকা নিয়ে আসি। এভাবে যদি চোরেরা সবকিছু নিয়ে যায় আমরা কীভাবে চলবো।
সদর উপজেলার পালং ইউনিয়নের আচুড়া গ্রাম থেকে আসা আছিয়া বেগম বলেন, আমার নাতিন নিয়ে চিকিৎসা করাতে সদর হাসপাতালে আসছি বাহিরে চিকিৎসা করার সামর্থ্য নেই। এখানে আসার পর গতকাল ভোররাতে আমার, ব্যাগ থেকে ,৫ হাজার টাকা আর একটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। আমরা গরীব মানুষ। এখন টাকার অভাবে ওষুধ কিনতে পারছি না।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মিতু আক্তার বলেন, আজ ভোরে হাসপাতাল থেকে চারজন রোগীর স্বজনদের টাকা পয়সা ও মালামাল খোয়া যাওয়ার বিষয়ে শুনেছি। হাসপাতালে রোগীর ও তাদের স্বজনদের মূল্যবান জিনিসপত্র তাদের নিজ দায়িত্বে রাখার কথা। হাসপাতালে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে তবে সবগুলো সচল নয়। হয়তো ওই ওয়ার্ডের সিসিটিভি ক্যামেরা ছিলো না। সিসিটিভি অকেজো হওয়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আমরা চুরির বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, চিকিৎসা নিতে আসা সকল রোগীর ও তাদের লোকজনকে মালামাল নিজ দায়িত্বে নিরাপদে রাখার জন্য বলা হয়ে থাকে। সাধারণত ভোরের দিকে চোরেরা রোগীর লোক সেজে চুরি করে থাকে।
আয়ার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, না দেখে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া ঠিক নয়। যদি কেউ চোর ধরতে পারে সেক্ষেত্রে হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়াও হাসপাতালে আরো বেশি সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন আবুল হাদি মোহাম্মদ শাহ্ পরান, বলেন, হাসপাতালের সম্পূর্ণ দায়িত্ব তত্ত্বাবধায়কের। ওনি একাই ওটা সামলান, হাসপাতালের উপরে আমার কোনো কর্তৃত্ব নেই। হাসপাতালে লোকবলের অভাব আছে কিনা, বা সিসি ক্যামেরা লাগানোর প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা সব প্লান তার। আমি শুধু তাকে পরামর্শ দিতে পারি।






















