আজ ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ও ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা

  • In বিশেষ সংবাদ
  • পোস্ট টাইমঃ ১৭ অক্টোবর ২০২৩ @ ০১:৩০ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ১৭ অক্টোবর ২০২৩@০১:৩০ অপরাহ্ণ
প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা
ছবি- বিডিহেডলাইন্স

শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত
স্টাফ রিপোর্টার।।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা চলছে লালমনিরহাট হাতীবান্ধার মন্দিরগুলোতে। প্রতিমা কারিগরেরা রাত-দিন কাজ করছেন অপরূপ রূপে দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশকে সাজিয়ে তুলতে।

দুর্গাপূজার পরই অনুষ্ঠিত হবে লক্ষ্মী ও কালীপূজো, ফলে এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে ব্যস্ততা বেশি হওয়ায় পুরুষের পাশাপাশি পালপাড়ার নারী ও শিশুরাও কাজ করছেন রাত-দিন। কিন্তু প্রতিমা তৈরির উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি ও করোনার অজুহাতে প্রতিমার দাম কম থাকায় লাভ হচ্ছে না বলে দাবি কারিগরদের।

আর ক’দিন বাদেই ভক্তদের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে শান্তির বার্তা নিয়ে মর্ত্যলোকে আসছেন দেবী দুর্গা। দেবী দুর্গার যে অবয়বে ভক্তির মাধ্যমে দেবীর মন জয়ের প্রার্থনা করবেন ভক্তরা সেই অবয়ব বা প্রতিমা তৈরির কাজে নিয়োজিত হাতীবান্ধার প্রতিমা কারিগররা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। মান ভালো হওয়ায় এ উপজেলার কারিগরদের তৈরি প্রতিমায় জেলার সকল পূজামণ্ডপের পূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পূজামণ্ডপগুলোতেও যাবে এখানে তৈরি দুর্গা প্রতিমা।

এছাড়া এবার দুর্গাপূজা এক সপ্তাহ পরই হবে লক্ষ্মী ও কালীপূজা। আর তাই এখানকার পাল ও কুমার বাড়ির ছেলে-বুড়ো, নারী-পুরুষ, স্কুল-কলেজ-গামীরা রাত-দিন পরিশ্রম করছেন ভক্তদের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিমা তৈরি করতে।

অধিকাংশ প্রতিমারই প্রতিকৃতি তৈরি হয়েছে এখন অপেক্ষা শুধু রং আর তুলির আচরের। অথচ নিপুণ হাতের ছোঁয়া আর কঠোর পরিশ্রম করে যারা তৈরি করেছেন প্রতিমা, তাদের অনেকেই আজ বিমুখ। কারণ প্রতিমা তৈরির অন্যতম উপকরণ মাটি, কাঠ, খড়, বাঁশ, লোহা ও রংসহ সকল পণ্যের মূল্য যে হারে বেড়েছে সে হারে বাড়েনি প্রতিমার দাম। তার উপর এ বছরে করোনার অজুহাতে অনেকটাই কম প্রতিমার দাম। এবার বড় প্রতিমা ৩০-৪০ হাজার ও ছোট প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ হাজার টাকায়। ফলে লাভ হবে না কারিগরদের, তারপরও ধর্মীয় আবেগ ও পেশার প্রতিশ্রুতির কারণে বছরের পর বছর প্রতিমা তৈরি করছেন প্রতিমা শিল্পীরা।

প্রতিমা কারিগর পল্লব রায় বলেন, প্রতিমা তৈরির ধুম পড়েছে। প্রতিটি বাড়িতেই তৈরি করা হচ্ছে একাধিক দুর্গা প্রতিমা। কারিগরেরা রাত-দিন প্রায় ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করছে অর্ডার নেয়া প্রতিমা তৈরি শেষ করতে।

প্রতিমা কারিগর লক্ষ্মী রানী বলেন, এখানে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানভাবে কাজ করছে। দেবী মাকে সাজাতে শত ব্যস্ততায়ও যত্ন সহকারে কাজ করা হচ্ছে।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির কাজে নিয়োজিত কারিগরদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

শিরোনামঃ