আজ ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ও ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জুতা না পরায় ফরিদপুরে ৭’ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে পেটালো প্রধান শিক্ষক!

  • In আইন ও অপরাধ
  • পোস্ট টাইমঃ ১৫ অক্টোবর ২০২৩ @ ১০:১৫ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ১৫ অক্টোবর ২০২৩@১০:১৫ অপরাহ্ণ
জুতা না পরায় ফরিদপুরে ৭’ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে পেটালো প্রধান শিক্ষক!
ছবি- বিডিহেডলাইন্স

হারুন-অর-রশীদ
ফরিদপুর প্রতিনিধি।।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় স্কুলে জুতা না পরে আসায় মো. তাসফিম আলী (১৩) নামের এক শিক্ষার্থীকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে মো. হায়দার হোসেন নামের এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

রবিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১ টার সময় ওই শিক্ষার্থীকে এ পেটানোর ঘটনা ঘটে।

আহত ওই শিক্ষার্থী ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭’ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে রাস্তা সংস্কারের কারণে রাস্তার পাশে থাকা ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি (স্কুল বোডিং) পরিত্যক্ত টিনের ঘর ভেঙ্গে ফেলতে গেলে ওই প্রধান শিক্ষক সরকারি কাজে বাধা প্রদান করেন। পরবর্তীতে ভাঙ্গা পৌরসভার ১ নং প্যানেল মেয়র তাকে জানান এটা জেলা প্রশাসক মোহদয়ের নির্দেশে ভাঙ্গা হচ্ছে। আপনার যদি কিছু বলার থাকে তো বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলার নির্বাহী অফিসারকে জানান। এর জের ধরে আমার অসুস্থ (স্কীন এলার্জী) ছেলেকে স্কুলে জুতা না পরে আসার কারণে মারধর করেন। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীর মা স্কুলে প্রধান শিক্ষকের নিকট গেলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও খারাপ আচরণ করেন।

এই বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তাসফিম আলী জানন, “রবিবার স্কুলে যাবার পর তৃতীয় বেলের সময় হেড স্যার রুমে আসেন যারা জুতা পরে আসে নাই তাদেরকে বাহিরে আসতে বলেন। আমার পায়ে জুতা না থাকায় সেখানে তিনি আমাকে বিদ্যুতের ক্যাবল তার দিয়ে পেটান আর বলেন মাস্তান হয়ে গেছিস। পরে বাসায় আসলে অসুস্থ হয়ে গেলে আম্মু জিজ্ঞেস করলে বলি আমাকে হেড স্যার মেরেছে।”

এই বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পিতা ভাঙ্গা পৌরসভার ১ প্যানেল মেয়র মো. আইয়ুব আলী জানান, আমার সঙ্গে বিরোধের জের ধরে আমার ছেলেকে মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর পৈশাচিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমার ছেলেকে বিদ্যালয়ে ভর্তির সময় আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি আমার ছেলে অসুস্থ তাই জুতা ব্যবহারে ডাক্তার নিষেধ করেছেন। আমার ছেলে যেন স্কুলে জুতা ছাড়া আসতে পারে তার জন্য মৌখিক অনুমতি নেই। এছাড়াও এই অসুস্থতার জন্য আমরা বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ভারতের চেন্নাইতে চিকিৎসার জন্য যাই। এরকম অনেক শিক্ষার্থীকেই বেধড়ক মারধরের অভিযোগ রয়েছে এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তাই আমার দাবি যথাযথ কর্তৃপক্ষ যেন এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

এই বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা তানিয়া খানম জানান, আমার ছেলেটার স্কীন এলার্জী থাকার কারণে জুতা ব্যবহার করতে পারেন না। জুতা পরলে ঘা হয়ে যায়। তাই আমার ছেলে স্কুলে জুতা পরে যায় না। এর জন্য কি আমার ছেলের উপর এমন অমানবিক নির্যাতন! এরকম অনেক শিক্ষার্থীকেই তিনি মারধর করেন। তাহলে একটা অসুস্থ বা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী কি স্কুলে পড়ালেখা করবে না? আর আমাকে বলে আপনার ছেলে কে ছুটিতে নেন। এই রকম চিকিৎসা তো দীর্ঘমেয়াদী। এর জন্য যদি বছরের পর বছর ছুটিতে থাকে তাহলে তো পড়াশোনা করতে পারবে না। স্কুল শেষে আমার ছেলেটা বাসায় আসলে অসুস্থ হয়ে যায়। পরে তাকে নিয়ে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসক দেখাই। এছাড়াও আমি স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের নিকট জানতে চাইলে তিনি আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

এই বিষয়ে ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হায়দার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিদ্যালয়ে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি।

এই বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জালাল উদ্দীন বলেন, আপনার মাধ্যম বিষয়টি জানলাম। আমি আগামীকাল সোমবার স্কুলে গিয়ে বিষয়টি জানবো। যদি অভিযোগের সত্যতা পাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য চিঠি পাঠাবো।

এই বিষয়ে ভাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, আমি যতটুকু শুনেছি স্কুল ড্রেস না পরার কারণে প্রধান শিক্ষক বাচ্চাদের কে শাসন করছে। তবে মারধরের বিষয়টি জানি না । যদি এরকম কোন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

শিরোনামঃ