আজ ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ও ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শেষ রক্ষা হয়নি শালিকের অত্যারাচী মালিক নাছিরের, অবশেষে মামলা

  • In সারাবাংলা
  • পোস্ট টাইমঃ ১৪ অক্টোবর ২০২৩ @ ০৬:৪৩ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ১৪ অক্টোবর ২০২৩@০৬:৪৩ অপরাহ্ণ
শেষ রক্ষা হয়নি শালিকের অত্যারাচী মালিক নাছিরের, অবশেষে মামলা

শাহীন মাহমুদ রাসেল
কক্সবাজার প্রতিনিধি।।

কক্সবাজার শহরের কলাতলীর শালিক রেস্টুরেন্টের কথিত স্টাফ কোয়ার্টার নামের বন্দিশালায় কর্মচারীদের যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের ঘটনায় মামলা লিপিবদ্ধ করেছে কক্সবাজার সদর থানার পুলিশ। শালিক রেস্টুরেন্টের মালিক নাছির উদ্দিন বাচ্চুকে প্রধান আসামি করে ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

অপর ২ আসামি হলেন, মো ইব্রাহিম ও মো হিমেল। এই ২ জন ওই বন্দিশালার সশস্ত্র পাহারাদার বলে কর্মচারিরা জানিয়েছেন।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, নাছিরের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতে দুটি এজাহার জমা হলেও শুক্রবার রাতে উপজাতি নারী তাঁর এজাহারটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল্লাহার বাবার দায়ের করা এজাহারটি মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে মোট অংকের টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন নাছির উদ্দিন বাচ্চু।

শালিক রেস্টুরেন্টের চাকরি ছেড়ে বন্দী জীবন থেকে মুক্ত হয়েছেন এক উপজাতী তরুণী। হোয়াটস্যাপে তার সঙ্গে আলাপ হয় প্রতিবেদকের। তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি ফেলছিলেন।

তরুণী বলেন, তিনি যখন বান্দরবান থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে শালিকে চাকরি করার উদ্দেশ্য কক্সবাজারে আসে তখন বেলি হ্যাচারী রোডের একটি ভবনে তোলা হয়।

সেখানে তিনি দেখেন তার আগেই অন্তত ১০ জন তরুণী থাকেন। প্রথম দিন তার ভালই কেটেছে। শালিকের মালিক কিংবা কোন পুরুষ তাকে কিছু বলেনি। তবে অন্যদের বেলায় নানা আপত্তিকর দৃশ্য দেখে তিনি আঁতকে উঠেন।

অন্য তরুণীদের কাছে স্টাফ কোয়াটার নামের বন্দীশালায় প্রতিদিন কি ঘটে তা জানতে চান। যখন একের পর এক নিপীড়ন নির্যাতন ও যৌনতার কাহিনী শোনেন তখন তিনি চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিলে কি হবে। সংসারের অভাব-অনটন তাকে সেখানে আটকে দিয়েছেন।

মনে মনে এই সিদ্ধান্ত নিতে নিতেই বিকেল বেলায় শালিকের একজন কর্মচারী এসে তাকে শালিক রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়। প্রথম দিন রেস্টুরেন্টের কাজ-কর্ম বুঝিয়ে দেয়। রাতে শোবার জন্য বেলী হ্যাচারী সংলগ্ন সাজ্জাদ হোসেনের ব্লিল্ডিংয়ে পাশে তাদের স্টাফ কোয়াটা ঘর দেয়া হয়। মালিক নাছির নিজে দিন রাতে পালাক্রমে আসেন। সারারাত ঘুমাতে পারিনি। সে এক ভয়াবহ রাত। তখন নিজেকে নিঃশেষ করে দেয়ার জন্য হাতের কাছে তেমন কোন কিছু পাইনি। পেলে হয়তো ওই রাতটাই আমার জীবনের শেষ রাত হতো। আমার মতো আর যারা চাকরি করছেন। তারা সবাই নারী নির্যাতন সহ্য করে চাকরি করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাছির জলবায়ু উদ্বাস্তু হয়ে মহেশখালী থেকে এসে আশ্রয় নেন শহরের জরাজীর্ণ একটি ভাড়া বাসায়। অর্থিক অনটনে পড়া লেখায় মাধ্যমিকের গন্ডি পেরোতে পারেন নি। জীবন যুদ্ধে নেমে কাজ নেন একটি হোটেলের ওয়েটার হিসেবে। দু’য়েক বছর যেতে না যেতেই হয়ে উঠেন শালিক রেস্টেরেন্টের মালিক।

অভিযোগ রয়েছে, রেস্টুরেন্টটি পুঁজি করে ভোজন রশিক মানুষের গলা কেটে এক সময়ের রিক্তহস্ত নাছির বিত্তভৈববের মালিক বনে যাওয়ার পর থেকে আধিপত্য বিস্তার করে ধরাকে সরা জ্ঞান করে চলেছেন। টাকার গরমে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে বেপরোয়া নাছির মানুষ পেটানোর বাতিক। মারমুখী ও উগ্র আচরণের কারণে গণমাধ্যমে বারবার জায়গা করে নেন।

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

শিরোনামঃ