আজ ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ও ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদার আবেদন শুনানিতে কী হলো

  • In জাতীয়, শীর্ষ
  • পোস্ট টাইমঃ ৯ আগস্ট ২০২৩ @ ০৬:৩৪ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ৯ আগস্ট ২০২৩@০৭:২৮ অপরাহ্ণ
নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদার আবেদন শুনানিতে কী হলো
ছবি- ফাইল ছবি

।।নিজস্ব প্রতিবেদক।।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছিলেন নিম্ন আদালত। ওই আদেশ বাতিল চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন তিনি। বুধবার (৯ আগস্ট) ওই আবেদনের ওপর আংশিক শুনানি নিয়েছেন হাইকোর্ট। বাকি শুনানির জন্য ১৪ আগস্ট দিন ধার্য হয়েছে। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানির দিন ধার্য করে এই আদেশ দেন। এরপর আর শুনানি পেছানো হবে না জানিয়ে আদালত বলেছেন, ওইদিন শুনে (আবেদনের ওপর বাকি শুনানি) শেষ করে দেব। আদালতে খালেদা জিয়ার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন দলটির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন। আর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

আইনজীবী কায়সার কামাল শুনানিতে বলেন, এ মামলায় মূল শুনানি করবেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। তিনি অসুস্থ, যে কারণে শুনানি পেছানোর আর্জি জানাচ্ছি। তখন আদালত বলে, আমরা দুদকের বক্তব্য শুনি, আপনি নোট নিন। আমরাও নোট নিচ্ছি। এরপর শুনানি করেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

শুনানিতে কায়সার কামাল বলেন, ১৯৯৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র হয়নি। হাইকোর্ট মামলাটি বাতিল করেছে। ওই মামলা বাতিলের বিরুদ্ধে দুদক এখন পর্যন্ত আপিল করেনি। সেই একই ইস্যুতে দায়ের হওয়া মামলায় খালেদা জিয়া মামলা মোকাবিলা করলে শেখ হাসিনা কেন করবেন না? এর জবাবে দুদকের আইনজীবী বলেন, মামলার অভিযোগ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে এ আবেদনটি করা হয়েছে। তাদের (খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের) দেখাতে হবে বিচারিক আদালত অভিযোগ গঠনের আদেশে কোথায় আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। আমরা দেখাব আদেশের কোথাও আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি। দুদক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে কেন আপিল করেনি, এটি এ মামলার বিষয়বস্তু নয়। কেন ওই মামলাটি বাতিল করেছেন, তার বিশদ ব্যাখ্যা হাইকোর্টের রায়ে রয়েছে। খালেদা জিয়ার আর শেখ হাসিনার মামলা এক নয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী বলেন, মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা অন্যান্য অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে। গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ও এম এ এইচ সেলিমের স্বীকারোক্তিতে তা নিশ্চিত করেছেন। এ মামলাটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার রায়ে (২০১৫ সালে) রায় দিয়ে আপিল বিভাগ বলেছেন, খালেদা জিয়ার অপরাধ প্রকাশ হচ্ছে, এই অপরাধের গুরুত্ব কতটুকু তা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ণয় হবে। আর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা বাতিলের রায়ে (২০১০ সালে) হাইকোর্ট বলেছেন, এ মামলায় কোনো অপরাধ ঘটেনি।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, এ মামলার (খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে) অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় মামলাটির অভিযোগ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে এসেছেন। আগামী ২২ আগস্ট বিচারিক আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ রয়েছে। হাইকোর্টে শুনানির তারিখ থাকলে বিচারিক আদালত তারিখ পিছিয়ে দেয়। বিচার আটকে থাকে। ফলে এ আবেদনের শুনানি হয়ে শেষ হওয়া জরুরি।

এ পর্যায়ে বেঞ্চের নেতৃত্ব দেয়া বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম বলেন, আগামী ১৪ আগস্ট বেলা ১১টায় রাখলাম। এরপর শুনানি আর পেছানো হবে না। ওইদিন শুনে (আবেদনের ওপর শুনানি) শেষ করে দেব।

রাষ্ট্রপক্ষের আরেক আইনজীবী অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাছান চৌধুরী বলেন, প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি। আমরা আজকে শুনানি করতে চাই। ১০ মিনিটের মধ্যে শুনানি শেষ করব। এ পর্যায়ে আদালত বলে, ১৪ আগস্ট বেলা ১১টা থেকে শুনানি শুরু হবে। ওই দিন সবার কথা শুনব। পরে আদালত ১৪ আগস্ট পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করে।

উল্লেখ্য নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ বাতিল চেয়ে গত ১৭ মে হাইকোর্টে আবেদন করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এর আগে গত ১৯ মার্চ নিম্ন আদালত নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদক কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডার কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন।

পরের বছর ২০০৮ সালের ৫ মে এই মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। যাতে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

শিরোনামঃ