শাকিল মুরাদ
শেরপুর প্রতিনিধি।।
আজ ৯ই আগস্ট, আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। প্রতি বছর নানা আয়োজনে দিবসটি পালিত হলেও শেরপুরের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের জীবনমান উন্নয়নে কোন উদ্যোগ নেইনি কেউ। তাদের অভিযোগ, এখনো সনাতন পেশার মধ্যে দিয়েই টিকে আছেন তারা। তাই জীবনমান উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন সমাজে পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠী।
জানা গেছে, শেরপুরের সীমান্তবর্তী শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলা। যেখানে বসবাস করেন গারো, বর্মণ, হদি, কোচ, হাজং, ডালু, বানাই সম্প্রদায়ের প্রায় ৬২হাজার মানুষ। এরমধ্যে গারো ৩৪ হাজার, বর্মণ ১৭ হাজার, হদি ৪ হাজার ৫শ, কোচ ৪ হাজার, হাজং ১২শ, ডালু ১২শ, বানাই ১শ জন বাসবাস করছেন। পাহাড়ি জনপদে বসবাস করা ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীরা তাদের সনাতন পেশা কৃষি কাজ, লাকড়ি কেটে বিক্রি করে দিনাতিপাত করলেও এখনো তাদের তেমন কোন জীবনমানের উন্নয়ন হয়নি। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চাকুরী থেকে বঞ্চিত তারা। পাশাপাশি এক সময় সমৃদ্ধ ভাষা ও সংস্কৃতি থাকলেও, কালের বিবর্তনে ও সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে নিজেদের চর্চা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ভুলতে বসেছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি।

স্থানীয় ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীরা রবেন্দ্র ম্রং বলেন, আমাদের সম্প্রদায়ের এখনো জীবনমান উন্নয়ন হয়নি। আমাদের বেশিরভাগ মানুষই কৃষি পেশার সাথে জড়িত। বড় সমস্যা হচ্ছে আমার পরিচয়। আমাদের পরিচয় না থাকায় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। আমাদের কেউ বলে আদিবাসী, কেউ বলে দ্র-নৃগোষ্ঠী। এই সমস্যা থেকে আমরা মুক্তি চাই।
মনিং টন ম্রং বলেন, আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। আমাদের সীমান্ত এলাকায় উন্নয়ন হয়নি। হয়নি রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার মান। আমাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা বাড়লেও, বাড়েনি আয়; এখনো উপার্জনের একমাত্র পথ কৃষি কাজ। তাই আমরা এসব থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। এজন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

আইইডি’র আদিবাসী সক্ষমতা উন্নয়ন প্রকল্পের ফেলো সুমন্ত বর্মণ বলেন, ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের জীবনমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেনি। আমরা আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি ফিরে পেতে চাই। পাশাপাশি আমাদের পৃথক ভূমি কমিশন গঠন এবং বিশেষ বরাদ্দ চাই আমরা। যে বরাদ্দের মধ্যে দিয়ে আমাদের আদিবাসীরা স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগামী যেনো হয়। এই বরাদ্দটা হলে সরকারের স্থায়ীত্বশীল যে লক্ষ্যমাত্রায় বিশেষ অবদান রাখবে।
ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নালিতাবাড়ী শাখার সভাপতি কোপেন্দ্র নকরেক বলেন, এখনো পাহাড়ি অঞ্চলের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীরা তাদের আদি পেশা থেকে এখনো বের না হওয়ায় তাদের জীবনমান উন্নয়ন হচ্ছে না। তাই তারা এখনো কৃষি কিংবা লাকড়ি সংগ্রহের পথেই জীবন পার করে যাচ্ছেন। আমরা চাই, সরকার দ্রুত একটা ব্যবস্থা নিয়ে আদিবাসীদের বিশেষ বরাদ্দ দিবেন।

ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান পাঞ্জল এম সাংমা বলেন, আমাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ পৃথক ভূমি কমিশন এবং আমাদের যে ৫% সরকারি চাকুরীতে কোঠা প্রবর্তনসহ আদিবাসীদেরকে সম্মান ও যথাযথ অধিকার দিয়ে যাতে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হয়। এটা আমাদের দাবি।





















