।।ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক।।
বাংলাদেশে বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের প্রমাণ যাচাই করে দেখেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার গ্রুপ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গত ২৮ ও ২৯ জুলাই দেশের মূল বিরোধী দলের অবস্থান কর্মসূচিতে নেতা ও সমর্থকদের ওপর সহিংস হামলা যাচাই শেষে গ্রুপটি অবিলম্বে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ করতে বলেছে। গ্রুপটিকে সাক্ষাৎকার দেয়া প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার আগে বিক্ষোভকারীরা মূলত শান্ত ছিলেন।
নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়োগের দাবিতে ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশ মুখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শেষ হয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক অন্তর্বর্তী আঞ্চলিক পরিচালক স্মৃতি সিং বলেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যেসব ভিডিও ও ছবি যাচাই করেছে তাতে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের মানবাধিকার ভঙ্গের প্রতি আলোকপাত হয়েছে। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আইন মেনে চলা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশপাশি নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। মানুষের আরও শারীরিক ক্ষতি এড়াতে এবং সংকট যেন আরও না বাড়ে, সে কারণেই এটা করা দরকার।’
বিক্ষোভের মোট ৫৬টি ছবি ও ১৮টি ভিডিও যাচাই করেছেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষকেরা এবং ক্রাইসিস এভিডেন্স ল্যাব। তাদের প্রমাণের পক্ষে নয় প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যও সংগ্রহ করেছে গ্রুপটি।
মাতুয়াইলে বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক গ্রুপটিকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা মাটিতে বসে স্লোগান দিচ্ছিল, সেই সময় পুলিশ তাদের ওপর রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে…যতটা দেখতে পেয়েছি তাতে বিক্ষোভকারীদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না।
টুইটারে পোস্ট করা ঘটনার একটি ভিডিও যাচাই করেছে অ্যামনেস্টি। এতে দেখা গেছে, টিয়ার গ্যাস থেকে বাঁচতে মাতুয়াইলের মা ও শিশু হাসপাতালে প্রবেশ করছে বিক্ষোভকারীরা। তাদের মধ্যে অন্তত পাঁচ নারী ছিলেন। ভিডিওটি হাসপাতালের মাঠ থেকে ধারণ করা।
হাসপাতালের কাছে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার উচিত নয়। কম প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার বিষয়ে জাতিসংঘের নির্দেশনা অনুযায়ী, সন্দেহভাজন মানুষের ওপর এর প্রতিক্রিয়া সর্বনিম্ন রাখতে হবে। বয়স্ক শিশু, গর্ভবতী নারী এবং অসুস্থ মানুষের ওপর এর প্রভাব সীমিত রাখতে হবে। এছাড়া আক্রান্ত এলাকা থেকে মানুষের সরে যাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।
স্মৃতি সিং বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের টিয়ার গ্যাস ব্যবহার উচিত নয়। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, বাংলাদেশের পুলিশ হাসপাতালের ভেতরে কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করছে, যার মধ্য দিয়ে তাদের আন্তর্জাতিক আইনকে তোয়াক্কা না করার বিষয়টি প্রকাশিত হচ্ছে। এটা উদ্বেগজনক। পুলিশের সবসময় উচিত সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের বৈচিত্র্যের কথা এবং টিয়ার গ্যাসের প্রভাব থেকে তাদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়টি মাথায় রাখা।





















