।।ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক।।
গত সপ্তাহে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী নাইজারের জান্তাদের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পশ্চিম আফ্রিকার নেতারা। আটক থাকা প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুমকে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে জান্তা নেতাদের সাত দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন তারা। এর আগে জান্তা নেতাদের তরফ থেকে সতর্ক করে বলা হয়, আঞ্চলিক কিংবা পশ্চিমা শক্তিগুলো ‘নাইজারের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের পরিকল্পনা’ করলে প্রতিরোধ করা হবে।
এদিকে, রাজধানী নিয়ামিতে ফরাসি দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার অভ্যুত্থান সমর্থক। নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজায় রবিবার জরুরি বৈঠকে বসে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর জোট ইকোওয়াস নেতারা। পরে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয় অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ইকোয়াস এর অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স।’
ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এক সপ্তাহের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সাংবিধানিক শৃঙ্খলা পুনর্বহাল করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে আঞ্চলিক জোটটি। এধরনের পদক্ষেপের মধ্যে শক্তি প্রয়োগও থাকতে পারে। আর সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা প্রণয়নে সেনাপ্রধানরা অবিলম্বে বৈঠকে বসবেন বলেও জানানো হয়।

ওই বৈঠেকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম আফ্রিকা ও সাহিল অঞ্চলে জাতিসংঘ কার্যালয়ের প্রধান ও বিশেষ দূত। তিনি জানিয়েছেন ইকোয়াস সিদ্ধান্ত নিলেও বিভক্তি ছিল কারণ নাইজারের ঘটনাপ্রবাহ উদ্বেগজনক। ড. লিওনার্দো সান্টোস সিমাও বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে নাইজার। নাইজার যদি এই ভূমিকা ছেড়ে দেয় তাহলে সন্ত্রাসীরা ওই অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে আরও বেশি সুযোগ পাবে।
আফ্রিকার কয়েকটি দেশে আগেও অভ্যুত্থান হলেও কখনো সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেয়নি ইকোয়াস। সবশেষ জোটটি ২০১৭ সালে সেনেগালের সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওই বছর গাম্বিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক ইয়াহিয়া জামেহ নির্বাচনে পরাজয় মেনে কার্যালয় ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে সেনা মোতায়েন করে সেনেগাল।
এদিকে, নাইজারে অভ্যুত্থানের পর প্রথম কোনো বিদেশি নেতা হিসেবে নিয়ামি সফর করেছেন চাদের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইদ্রিস দেবে। জান্তা নেতাদের পদত্যাগের আহ্বান জানাতে তিনি সেখানে গেছেন বলে জানিয়েছে চাদ সরকার। তার সঙ্গে জান্তা উপপ্রধান জেনারেল সালিফু মেডের সঙ্গে সাক্ষাত হয়েছে। তবে জান্তা নেতা জেনারেল আবদুর রহমানে তিচিয়ানির সঙ্গে সাক্ষাত হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।





















