।।বিশেষ প্রতিবেদক।।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ সপ্তাহান্তে ভারতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন না; জানিয়েছে বেইজিং। পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং সম্মেলনে চীনের প্রতিনিধিত্ব করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, সম্মেলনে শির সঙ্গে দেখা হবে না জেনে তিনি হতাশ। চীনা প্রেসিডেন্ট কেন বিশ্ব নেতাদের এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে যাচ্ছেন না তা স্পষ্ট করেনি বেইজিং। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। আরেকটা কারণ, প্রত্যাশিত মর্যাদা না পাওয়ার আশঙ্কা। এছাড়া শি নিজ দেশের অর্থনৈতক স্বচ্ছতা, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন দেওয়া ও তাইওয়ানকে ঘিরে তাদের সামরিক তৎপরতার কারণে প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া এড়াতেও এই সম্মেলন বর্জন করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর বিবিসি ও ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে।
চীন এবং ভারতের সম্পর্কেও তিক্ততা তৈরি হয়েছে সীমানা বিরোধকে ঘিরে। হিমালয় অঞ্চলে সীমানা বিরোধ নিয়ে এই দুই দেশ সেখানে মুখোমুখি অবস্থানে আছে। গত সপ্তাহে বেইজিং একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিল যেখানে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ এবং আকসাই-চিন মালভূমি চীনের সীমানা-ভুক্ত বলে দেখানো হয়েছে। এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল ভারত।
গত বছরের নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে শি-বাইডেন সাক্ষাতের দু মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে কথিত চীনা গুপ্তচর বেলুন ওড়ানোর অভিযোগ নিয়ে দু দেশের সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়। এই ঘটনায় সম্পর্ক উন্নয়নের আশা মুখ থুবড়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের সম্পর্কে উত্তেজনা কমাতে এ বছর ওয়াশিংটনের দিক থেকে কিছু কূটনৈতিক দৌড়-ঝাঁপ সত্ত্বেও তেমন একটা ফল হয়নি। তবে শি-বাইডেনের মধ্যে নভেম্বরে সান ফ্রান্সিসকোতে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন শীর্ষ সম্মেলনে দেখা হওয়ার সুযোগ আছে।
বিবিসির এক বিশ্লেষণ বলছে, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার অভিযান, জিনজিয়াং প্রদেশে মানবাধিকার প্রশ্ন, হংকং, তাইওয়ানকে নিজের দেশের অংশ বলে চীনের দাবি, এবং দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে। অন্যদিকে উচ্চ প্রযুক্তির খাতে চীন যাতে ঢোকার সুযোগ না পায় সেজন্যে তাদের বিরুদ্ধে যেসব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেয়া হচ্ছে – তা নিয়েও বেইজিং ক্ষুব্ধ। শি তার দেশকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্ব ব্যবস্থার বিপরীতে একটি বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। গত মাসে শি যখন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান, তখন তিনি সেখানে ‘পশ্চিমা আধিপত্যের’ সমালোচনা করেন। তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ‘ঔপনিবেশিক জোয়াল’ থেকে মুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, হতে পারে যে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক বিবাদের কারণে শি জি টোয়েন্টি সম্মেলনে যাচ্ছেন না। অথবা তিনি সদ্য সম্প্রসারিত ব্রিকস ফোরামকে শক্তিশালী করতে চান। এমনও হতে পারে, তিনি দেশে থেকে চীনের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলির মীমাংসা করতে চান। ব্লুমবার্গ বলছে, শি এমন একটি ঘটনা এড়িয়ে যাচ্ছেন যেখানে তিনি সম্ভবত চীনের অর্থনৈতিক গতিপথ, তাইওয়ানের প্রতি বেইজিংয়ের সামরিক আগ্রাসন এবং ইউক্রেন আক্রমণের পরে রাশিয়ার প্রতি তার সমর্থন নিয়ে কঠোর সব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারেন। এদিবে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির লি কুয়ান ইউ স্কুল অফ পাবলিক পলিসির সহযোগী অধ্যাপক আলফ্রেড উ। তিনি ব্লুমবার্গকে বলেছেন, শি ‘সম্রাটসুলভ মানসিকতা’র মধ্যে রয়েছেন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর কাছেই ধর্ণা দেবে বলে আশা করছেন। উ আরও বলেন, ‘শি যখন নিজ দেশে বিদেশি অতিথিদের গ্রহণ করেন তখন তিনি খুব উচ্চ মর্যাদা উপভোগ করেন। তিনি ব্রিকস সম্মেলনেও তিনি বিশেষ আচরণ পেয়েছেন কিন্তু জি-২০-তে তার সেটা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।’






















