আজ ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ও ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ২৯শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মুগদা হাসপাতালে শিশুকে ভর্তি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে হাতাহাতি, বাবা আটক

  • In জাতীয়
  • পোস্ট টাইমঃ ২৬ জুলাই ২০২৩ @ ০৮:২৪ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ২৬ জুলাই ২০২৩@০৮:২৪ অপরাহ্ণ
মুগদা হাসপাতালে শিশুকে ভর্তি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে হাতাহাতি, বাবা আটক

।।নিজস্ব প্রতিবেদক।।

ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুকে ভর্তি করানো নিয়ে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুর বাবা ও চিকিৎসকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা হাবিবুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও এই ঘটনার জন্য একটি তদন্ত কমিটি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

বুধবার দুপুরের দিকে মুগদা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সময়ের আলোকে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির।

তিনি বলেন, মুগদা হাসপাতালে একটি শিশুকে নিয়ে তার অভিভাবকরা হাসপাতালে এসেছিলেন। কিন্তু এখন নতুন রোগী ভর্তি করার মত অবস্থা নাই। কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির অভিভাবকদের জানিয়েছিলেন, সেখানে একটা বিছানায় দুইজন করে শিশু আছে। সেখানে আরেকজন শিশুকে ভর্তি করলে চিকিৎসা যথাযথভাবে হবে না। এরপর কথা কাটাকাটির জেরে শিশুটির বাবা চিকিৎসকের ওপর চড়াও হন।পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ওই ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদফতর একটি তদন্ত কমিটি করেছে বলেও জানান আহমেদুল কবির। জানা গেছে, অসুস্থ শিশুটিকে মুগদা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তাকে নিয়ে বাড়ি চলে যান তার মা সাথী আক্তার। তিনি সাংবাদিকদের জানান, রাজধানীর মানিকনগর এলাকায় তাদের বাসা । কয়েক দিন আগে তাদের মেয়ে আদিবার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে বাসায় রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু অবস্থা খারাপ হলে বুধবার সকালে তার বাবা হাবিবুর রহমান তাকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

সাথী বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে সেখানকার দরজা বন্ধ পান তারা। তখন একজন আয়ার কাছে মেয়ের অবস্থা জানিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার কথা বলেন। হাসপাতালে ডাক্তাররে রুমে গিয়ে আমার গিয়ে দেখি দড়জা বন্ধ করা। আমরা গেটে নক করলে সেটা খোলেন একজন চিকিৎসক। আমার হাজবেন্ড ওই চিকিৎসককে বলে ‘স্যার আমার বাচ্চা অনেক অসুস্থ, নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। তাকে একটু দেখেন। তখন ডাক্তার বললেন, এখানে সিট নাই, এইখান থেকে যান এবং আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। এক পর্যায়ে আমার স্বামীকে চড় মারলে আমার স্বামী ওই চিকিৎসকের কলার ধরেন। এরপর আরও কয়েকজন এসে আমাদের মারধর করেন।

সাথী বলেন, তখন ওই ডাক্তার তার রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলে হাবিবুর রহমান দরজায় লাথি দেন এবং দরজা খুলতে বলেন। এক পর্যায়ে হাবিবুর রহমান ৯৯৯ এ ফোন করেন। পুলিশ এসে তখন হাবিবুর রহমানকে একটি কক্ষে নিয়ে বসায়।
পরে আদিবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুদের জন্য নির্ধারিত ডেঙ্গু ওয়ার্ডে পাঠিয়ে তাকে স্যালাইন দেওয়া হয়।
সাথী জানান, ওই অবস্থায় বাচ্চাসহ তিনি আবার নিচে এসে দেখেন, তার স্বামীর হাতে হাতকড়া পরানো। কিছুক্ষণ পরে তাকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।

যদিও এ ঘটনা সম্পর্কে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নিয়াতুজ্জামান কোন কথা বলতে রাজি হননি। তবে মুগদা থানার ওসি আবদুল মজিদ বলেন, আমরা শিশু বাবাকে আটক করেছি। এখন মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

শিরোনামঃ